রাজধানীর সড়ক এখন হকারদের দখলে, ফুটপাত ছাড়িয়ে মূল রাস্তায় ভাসমান বাজার

ঢাকা, ১৫ মে – রাজধানীর মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে বেড়িবাঁধ তিন রাস্তার মোড় পর্যন্ত বিস্তৃত সড়কটির এক পাশের চার লেনের মধ্যে তিন লেনই এখন হকারদের দখলে। ফুটপাত ছাড়িয়ে মূল সড়কে মাছ, সবজি ও পোশাকের পসরা সাজিয়ে বসেছেন শত শত হকার। বিকেলের দিকে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে, যার ফলে অবশিষ্ট এক লেনে রিকশা ও বাস চলাচল করতে গিয়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কেরানীগঞ্জ ও নবাবগঞ্জসহ বুড়িগঙ্গার তীরবর্তী এলাকাগুলোর মানুষের ঢাকা প্রবেশের অন্যতম এই পথটি এখন কার্যত ভাসমান বাজারে পরিণত হয়েছে। মোহাম্মদপুর আল্লাহ করিম মসজিদ থেকে তিন রাস্তার মোড় পর্যন্ত সড়কের বিশাল অংশ হকারদের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেই বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
আট লেনের এই সড়কে কোনো ট্রাফিক সিগন্যাল না থাকলেও দখলের কারণে সারাদিনই যানবাহন থমকে থাকে। বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফুটপাতে দোকান বসানোর বিনিময়ে তাদের নিয়মিত চাঁদা দিতে হয়। মাছ বিক্রেতা মোহাম্মদ রাসেল জানান, বড় ভ্যানের জন্য দিনে ৫০০ টাকা চাঁদা দিতে হয়, যার প্রভাব পড়ে পণ্যের দামের ওপর। সবজি বিক্রেতা জয়নাল এবং আলু ও পেঁয়াজ বিক্রেতা কাউসার আহমেদও একই ধরনের অভিযোগ করেন।
তারা জানান, নিয়মিত চাঁদা দেওয়ার মাধ্যমেই তারা রাস্তায় দোকান পরিচালনা করেন এবং পুলিশি ঝামেলা এড়াতে একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী এই অর্থ আদায় করে। পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে মাঝেমধ্যে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে না। মে মাসের শুরুতে ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের অভিযানে পাঁচজনকে জরিমানা করা হয়েছিল।
ডিএমপির সহকারী কমিশনার তারিক লতিফ জানান, জনভোগান্তি কমাতে ফুটপাত সংলগ্ন একটি লেন হকারদের জন্য নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু সেই সীমানা মানা হচ্ছে না। ট্রাফিক পুলিশের উপপরিদর্শক রেজা জানান, চাঁদাবাজির অভিযোগে ইতিমধ্যে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ছাদেকুর রহমান বলেন, খুব শীঘ্রই সম্পত্তি বিভাগের মাধ্যমে নতুন করে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।
একই চিত্র রাজধানীর মিরপুর-১০, ফার্মগেট, গুলিস্তান, যাত্রাবাড়ী ও নিউমার্কেট এলাকাতেও বিদ্যমান। হকারদের দাপটে সাধারণ পথচারীদের চলাচল অসম্ভব হয়ে পড়েছে। মেট্রো রেল চালুর পর মিরপুর এলাকায় যাত্রী চাপ বাড়লেও সড়কের নিচের দখলবাজি বন্ধ হয়নি। মালিবাগ ও মৌচাক এলাকায়ও ফুটপাত দখল করে ভাসমান দোকান বসানোর ফলে জনদুর্ভোগ চরম সীমায় পৌঁছেছে।
এস এম/ ১৫ মে ২০২৬









