ইরানে বড় ধরনের যৌথ হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল

তেহরান, ১৪ মে – ইরানে বড় ধরনের যৌথ সামরিক হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এমন চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন দেশটির প্রভাবশালী আইনপ্রণেতা কামরান ঘাজানফারি। বুধবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি সতর্ক করে বলেন যে, মার্কিন ও ইসরায়েলি সেনারা ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় কৌশলগত কিছু দ্বীপ দখলের পরিকল্পনা করছে।
এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে ওই অঞ্চলে বিশাল সমরাস্ত্রের মজুদ ও বিপুল সংখ্যক সেনা মোতায়েন করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্য ও বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে এই অভিযানের বিষয়টি স্পষ্ট হচ্ছে বলে জানান এই আইনপ্রণেতা। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে যে অস্থিরতা শুরু হয়েছিল, এই নতুন তথ্য তাকে আরও ঘনীভূত করল।
উল্লেখ্য, সেই সময় টানা ৪০ দিন ধরে চলা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ইরানও পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছিল। ইসরায়েলের পাশাপাশি উপসাগরীয় আরব দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক অবকাঠামোগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে তেহরান। পরবর্তীতে পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষ প্রথমে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়, যা গত ৮ এপ্রিল থেকে কার্যকর হয়েছিল।
পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়িয়ে দিলেও স্থায়ী কোনো সমাধান আসেনি। যুদ্ধবিরতি চলাকালীন দুই দেশের প্রতিনিধিরা কয়েক দফা আলোচনায় বসলেও সংকট নিরসনে কোনো ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি।
ফলে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ চলা অবস্থাতেই নতুন করে সংঘাত শুরুর একটি আশঙ্কা প্রথম থেকেই ছিল। কামরান ঘাজানফারির এই সাম্প্রতিক দাবি সেই আশঙ্কাকে নতুন করে উসকে দিয়েছে। ইরান ইন্টারন্যাশনালের বরাতে জানা গেছে যে, দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপগুলোর দখল নেওয়ার বিষয়টি এখন তেহরানের জন্য বড় নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে দেখা দিয়েছে।
এস এম/ ১৪ মে ২০২৬









