ব্রিকস সম্মেলনে ইরান-ইসরায়েল ইস্যুতে বড় কূটনৈতিক পরীক্ষার মুখে সদস্য দেশগুলো

নয়া দিল্লী, ১৩ মে – যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর জোট ব্রিকস। ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে আগামী ১৪ ও ১৫ মে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জোটের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত দুই বিপরীতমুখী অবস্থানে থেকে অংশ নিচ্ছে।
ফলে মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিয়ে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে একটি অভিন্ন অবস্থানে পৌঁছানো সম্ভব হবে কি না তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে জোর আলোচনা চলছে। শুরুতে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে নিয়ে ব্রিকস গঠিত হলেও পরবর্তীতে এতে যুক্ত হয় মিসর, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত। সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি জোটের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক ও কৌশলগত সমন্বয় আরও জটিল হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
কূটনৈতিক সূত্র থেকে জানা গেছে ইরান চাচ্ছে ব্রিকস জোট আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার নিন্দা জানাক। এ লক্ষ্যে তেহরান ২০২৬ সালের ব্রিকস চেয়ারম্যান ভারতকে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ঐকমত্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে। তবে জোটের ভেতরেই এ নিয়ে মতপার্থক্য স্পষ্ট। কারণ সংযুক্ত আরব আমিরাত বর্তমান সংঘাতে ইরানের বিপরীত অবস্থানে রয়েছে এবং পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখছে।
বিশ্লেষকদের মতে,
- এই পরিস্থিতি ব্রিকসের অভ্যন্তরীণ ঐক্য নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।
- বৈঠকে যোগ দিতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বুধবার দিল্লি পৌঁছাতে পারেন।
- রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভও বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
- তবে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই থাকছেন না। একই সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেইজিং সফর থাকায় চীনের প্রতিনিধিত্ব করবেন ভারতে নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত শু ফেইহং।
- এই সম্মেলন ভারতের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক পরীক্ষা হতে পারে।
- ভারত একদিকে ইরানের সঙ্গে জ্বালানি ও আঞ্চলিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গেও দিল্লির গভীর কৌশলগত সম্পর্ক বিদ্যমান। এমতাবস্থায় ব্রিকস সদস্যদের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে কোনো যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা সম্ভব কি না সেটিই এখন দেখার বিষয়।
এস এম/ ১৩ মে ২০২৬









