না ফেরার দেশে মঞ্চসারথি আতাউর রহমান: নিভে গেল নাট্যাঙ্গনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র!

ঢাকা, ১২ মে – বাংলাদেশের নাট্য আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব, স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত সাংস্কৃতিক যোদ্ধা আতাউর রহমান আর নেই। দীর্ঘ ১০ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে পরাজয় মানলেন এই কিংবদন্তি। তার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন অভিনেতা ও নাট্য সংগঠক রওনক হাসান। গুণী এই নাট্যজনের প্রয়াণে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার নিজ বাসায় হঠাৎ পড়ে গিয়ে গুরুতর চোট পান আতাউর রহমান। এরপর থেকেই তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে। প্রথমে তাকে গুলশানের একটি হাসপাতালে নেওয়া হলেও আইসিইউ বেড খালি না থাকায় জরুরি ভিত্তিতে ধানমন্ডির একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
সেখানে ভর্তির পর থেকেই তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। মাঝে একদিন শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হওয়ায় কৃত্রিম শ্বাসযন্ত্র খুলে নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু রোববার পুনরায় অবনতি ঘটলে তাকে আবার লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। সোমবার দিবাগত রাতে চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে তিনি পরপারে পাড়ি জমান। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
এক নজরে আতাউর রহমান
- ১৯৪১ সালের ১৮ জুন নোয়াখালীতে জন্মগ্রহণ করা এই নাট্যজন কেবল একজন অভিনেতা ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন স্বাধীনোত্তর বাংলাদেশের মঞ্চনাটক আন্দোলনের প্রধান কারিগরদের একজন।
- বহুমাত্রিক প্রতিভা: তিনি একাধারে অভিনেতা, নাট্যকার, নির্দেশক এবং প্রাবন্ধিক।
- মঞ্চসারথি: থিয়েটার অঙ্গনে অবদানের জন্য তাকে পরম শ্রদ্ধায় ‘মঞ্চসারথি’ হিসেবে সম্বোধন করা হয়।
- জাতীয় স্বীকৃতি: শিল্পকলা ও নাট্যাঙ্গনে অনন্য অবদানের জন্য তিনি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ দুই বেসামরিক সম্মাননা— একুশে পদক ও স্বাধীনতা পদক-এ ভূষিত হয়েছেন।
আতাউর রহমানের প্রয়াণ কেবল একজন ব্যক্তির মৃত্যু নয়, বরং বাংলাদেশের মঞ্চনাটকের একটি সমৃদ্ধ পাঠশালার অবসান। বর্তমান সময়ের বহু তারকা অভিনেতা ও নির্দেশক সরাসরি তার হাত ধরে তৈরি হয়েছেন। মঞ্চের প্রতি তার যে একাগ্রতা এবং শৃঙ্খলাবোধ ছিল, তা নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য একটি বড় শিক্ষার জায়গা।
আতাউর রহমান চলে গেলেও তার নির্দেশিত নাটক, তার কণ্ঠস্বর এবং তার রেখে যাওয়া আদর্শ বাংলাদেশের শিল্পকলা ও সংস্কৃতির ইতিহাসে চিরকাল অম্লান থাকবে। আজ সারা দেশের নাট্যকর্মী ও সংস্কৃতিমনা মানুষ এই মহান শিল্পীর প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছে।
এনএন/ ১২ মে ২০২৬









