প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাচ্ছেন তারেক রহমান

ঢাকা, ১১ মে – এক নতুন ও আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে এবার উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামীকাল মঙ্গলবার (১২ মে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ইউজিসির (UGC) দিনব্যাপী জাতীয় কর্মশালা। এই ঐতিহাসিক কর্মশালার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো—প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় এটিই হবে তারেক রহমানের প্রথম কোনো আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ। তাঁর এই সফর ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসহ শিক্ষা অঙ্গনে বইছে উৎসবের আমেজ।
ভবিষ্যৎ শিক্ষার পথনকশা: যা থাকছে কর্মশালায়
উচ্চশিক্ষাকে কেবল পুঁথিগত বিদ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে একে বৈশ্বিক মানদণ্ডে উন্নীত করাই এই কর্মশালার মূল লক্ষ্য। ইউজিসি জানিয়েছে, উদ্বোধনী পর্বের পর পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ টেকনিক্যাল সেশনে আলোচনা হবে:
১. কর্মসংস্থান ও দক্ষতা: গ্র্যাজুয়েটদের চাকরির বাজারে যোগ্য করে তোলা এবং ‘সফট স্কিল’ উন্নয়নে চাহিদাভিত্তিক শিক্ষা।
২. শিল্প-একাডেমিয়া কানেকশন: বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার কৌশল।
৩. এআই ও ডিজিটাল রূপান্তর: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) সংযোজন, ডিজিটাল সাক্ষরতা এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা।
৪. গবেষণা ও শিক্ষকদের মান: শিক্ষকদের আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং গবেষণায় উৎকর্ষ সাধন।
৫. প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার: উচ্চশিক্ষার মান নিশ্চিতকরণ এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা আনা।
ইউজিসির জনসংযোগ বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। পুরো আয়োজনের সভাপতিত্ব করবেন ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ।
রাজনৈতিক ও শিক্ষাবিদদের মতে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই ঢাবি সফর কেবল একটি প্রটোকল সফর নয়, বরং এটি শিক্ষা সংস্কারে তাঁর অঙ্গীকারের প্রতিফলন। ছাত্রজীবন থেকেই শিক্ষার মানোন্নয়নে সোচ্চার এই নেতা এখন সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর আসন থেকে দিকনির্দেশনা দেবেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কর্মশালার সুপারিশের ভিত্তিতে যে ‘নীতিগত পথনকশা’ তৈরি হবে, তা কার্যকর হলে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা থেকে ‘শিক্ষিত বেকার’ তৈরির তকমা ঘুচে যাবে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং আধুনিক প্রযুক্তির সংযোজন বাংলাদেশের তরুণদের বৈশ্বিক বাজারে নতুন শক্তি হিসেবে গড়ে তুলবে।
এনএন/ ১১ মে ২০২৬









