মাগুরার লিচুতে চাঙা গ্রামীণ অর্থনীতি, ৮৫ কোটি টাকার বাণিজ্যের সম্ভাবনা

মাগুরা, ১০ মে – স্বাদ, গুণগত মান ও ঐতিহ্যের অনন্য সমন্বয়ে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ফল হিসেবে পরিচিত মাগুরার লিচু বাজারে আসতে শুরু করেছে। বিশেষ করে জেলার হাজরাপুর এলাকার লিচু ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পাওয়ার পর এর সুনাম ও চাহিদা দেশজুড়ে আরও বেড়েছে। চলতি মৌসুমে লিচুর ফলন ভালো হওয়ায় জেলার গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।
কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় চাষিদের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মাগুরার বিভিন্ন এলাকায় লিচুর ফলন মোটামুটি ভালো হয়েছে। কোথাও বাম্পার ফলন হয়েছে, আবার কিছু এলাকায় ফলন সামান্য কম হলেও সামগ্রিক উৎপাদন নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা। মাগুরা সদর উপজেলায় ৩ হাজারেরও বেশি বাণিজ্যিক লিচু বাগান গড়ে উঠেছে যা বিশাল এক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
দেশি জাতের পাশাপাশি এখন বোম্বাই ও চায়না ৩ জাতের লিচুর চাষও ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এসব উন্নত জাতের লিচুর আকার ও মিষ্টতা ভালো হওয়ায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাইকাররা আগাম বাগান কিনে নিচ্ছেন। লিচুর মৌসুমকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য অস্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। বাগান পরিচর্যা, লিচু সংগ্রহ, ঝুড়ি প্রস্তুত ও বাজারজাতকরণের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিকরা।
স্থানীয় শ্রমিক আলেয়া বেগম জানান, লিচুর মৌসুমে কাজ পাওয়ায় তাদের সংসারে সচ্ছলতা আসে। বাগান মালিক বিল্লাল হোসেন বলেন, এবার ফলন ভালো হয়েছে এবং শুরুতেই বাজারে দামও সন্তোষজনক। শেষ পর্যন্ত ন্যায্যমূল্য বজায় থাকলে বড় ধরনের মুনাফার আশা করছেন তিনি। বর্তমানে বাজারে দেশি লিচু প্রতি ১০০টি ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে কেবল মাগুরা সদর উপজেলাতেই ৫৩১ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে।
বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকলে এ বছর জেলাটিতে প্রায় ৮৫ কোটি টাকার লিচু বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে। মাগুরা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় রোগবালাই কম হয়েছে এবং সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে চাষিরা কাঙ্ক্ষিত লাভ পাবেন। সঠিক পরিবহন সুবিধা নিশ্চিত হলে মাগুরার লিচু শিল্প স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন এক মাইলফলক তৈরি করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
এস এম/ ১০ মে ২০২৬









