জাতীয়

জনগণের জান-মালের নিরাপত্তায় সাধ্যের সবটুকু দিয়ে কাজ করুন: পুলিশকে প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা, ১০ মে – দীর্ঘ দেড় দশকের রাজনৈতিক চড়াই-উতরাই এবং ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থানের পর গণতান্ত্রিক পরিবেশে প্রথমবারের মতো পালিত হচ্ছে পুলিশ সপ্তাহ। আজ রোববার (১০ মে) সকালে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুলিশ বাহিনীকে জনগণের সেবক হিসেবে নিজেদের আত্মনিয়োগ করার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যের শুরুতেই পুলিশ সদস্যদের সুশৃঙ্খল কুচকাওয়াজের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “আজকের এই বর্ণিল প্যারেড কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং এটি আপনাদের শৃঙ্খলা, আত্মমর্যাদা এবং সুন্দর ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার অবিচল অঙ্গীকারের বহিঃপ্রকাশ।”

তারেক রহমান তার বক্তব্যে বিগত দেড় দশকের সংগ্রামের স্মৃতিচারণ করে বলেন, “দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার এক রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থানের পর এই সরকার গঠিত হয়েছে। যারা বছরের পর বছর হামলা-মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, সেই স্বাধীনতাপ্রিয় মানুষ এখন কেবল শান্তি ও নিরাপত্তা চায়।”

তিনি স্পষ্টভাবে মনে করিয়ে দেন যে, দেশের মানুষের শান্তি নিশ্চিত করা অনেকাংশেই পুলিশের ভূমিকার ওপর নির্ভরশীল। তিনি পুলিশ বাহিনীকে নির্দেশ দিয়ে বলেন, “সাধ্য এবং সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন—এটিই জনগণের রায় নিয়ে গঠিত বর্তমান সরকারের প্রত্যাশা।”

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সদ্য সমাপ্ত জাতীয় নির্বাচন প্রমাণ করেছে যে, বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষে অত্যন্ত দক্ষতা এবং পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা সম্ভব।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, দেশের গণ্ডি পেরিয়ে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনেও বাংলাদেশ পুলিশ সাহসিকতা ও মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে আন্তর্জাতিকভাবে সুনাম কুড়িয়েছে। বিশেষ করে নারী পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর জোর দেন—মানবিক আচরণ। তিনি বলেন, “আপনারা যদি বিদেশের মাটিতে শান্তি রক্ষা ও মানবাধিকার সুরক্ষায় মানবিক হতে পারেন, তবে দেশের জনগণের সঙ্গেও একই রকম মানবিক আচরণ আমাদের একান্ত প্রত্যাশিত।”

পুলিশ সপ্তাহের এই উদ্বোধনী বার্তার মাধ্যমে সরকারপ্রধান একটি বিষয় স্পষ্ট করে দিয়েছেন—নতুন বাংলাদেশে পুলিশ আর কোনো দলের লাঠিয়াল বাহিনী হিসেবে নয়, বরং জনগণের অকৃত্রিম বন্ধু হিসেবে কাজ করবে। পুলিশের আধুনিকায়ন এবং সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাহিনীর অভ্যন্তরে পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করাই হবে এই সরকারের অগ্রাধিকার।

আগামী ১৩ মে পর্যন্ত চলবে এই পুলিশ সপ্তাহ, যেখানে বিভিন্ন কর্ম-অধিবেশনে পুলিশের আগামী বছরের কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে।

“আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুলিশকে একটি আধুনিক, জনবান্ধব ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

এনএন/ ১০ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language