নিজের দেশেই তোপের মুখে নেতানিয়াহু! রাতভর তেল আবিবে বিক্ষোভ

তেল আবিব, ১০ মে – ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর যুদ্ধকালীন সরকারের নীতি এবং দক্ষিণ লেবাননে ক্রমাগত হামলার প্রতিবাদে আবারও বিক্ষোভে ফেটে পড়েছে তেল আবিব। শনিবার রাতভর চলা এই বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা সরকারের ব্যর্থতা, যুদ্ধের ভয়াবহতা এবং অভ্যন্তরীণ বৈষম্যের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
ইরান ও লেবাননের সাথে চলমান যুদ্ধ এবং গাজা সংকটের মধ্যে চলতি বছরের শেষের দিকে ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে নির্বাচনের আগেই সরকারবিরোধী জনমত চরম আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে অতি-গোঁড়া ইহুদি (আল্ট্রা-অর্থোডক্স) সম্প্রদায়ের সদস্যদের সেনাবাহিনীতে বাধ্যতামূলক যোগদানের ক্ষেত্রে অনীহা এবং সরকারের পক্ষ থেকে তাদের প্রতি নমনীয়তা সাধারণ ইসরায়েলিদের মধ্যে গভীর বিভাজন তৈরি করেছে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ৮৩ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত নাগরিক ডেভিড আলকান রয়টার্সকে বলেন, “আমি এখানে একটি ‘বিপর্যয়কর’ সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে এসেছি। এই সরকার জনগণকে মিথ্যা তথ্য ও ভুয়া খবর দিয়ে বিভ্রান্ত করছে। আমরা যা দেখছি, তা সম্পূর্ণ ভুল পথে দেশ পরিচালনা।”
বিক্ষোভকারীদের একটি বড় অংশের ক্ষোভ কেবল যুদ্ধের ওপর নয়, বরং দেশের অভ্যন্তরীণ নীতিমালার ওপরেও। ডেভিড আলকানের বক্তব্যে সেই ক্ষোভের প্রতিফলন ঘটে। তিনি বলেন, “ইরান আমাদের শত্রু ঠিকই, কিন্তু তারা সবচেয়ে বিপজ্জনক শত্রু নয়। আমাদের সবচেয়ে বিপজ্জনক শত্রু হলো দেশের ভেতরে থাকা সেই সব মানুষ যারা সেনাবাহিনীতে যেতে অস্বীকার করে, কোনো কাজ করে না, কর দেয় না এবং পরজীবীর মতো আমাদের দেওয়া আয়করের ওপর নির্ভর করে বেঁচে থাকে।”
মূলত যুদ্ধকালীন এই কঠিন সময়ে সাধারণ নাগরিকদের ওপর যুদ্ধের বোঝা বাড়লেও অতি-গোঁড়া ইহুদিদের বিশেষ সুবিধা পাওয়াকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলি সমাজের ধর্মনিরপেক্ষ ও ধর্মীয় গোষ্ঠীর মধ্যে বড় ধরণের সংঘাত শুরু হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, বিক্ষোভকারীরা বেশ কিছু বিতর্কিত ও কড়া স্লোগান সম্বলিত প্ল্যাকার্ড বহন করছেন।
এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো:
- “গণহত্যা বন্ধ করুন”
- “৭ অক্টোবর ভুলে যান”
- “বিবি এসকোবার” (কলম্বিয়ান কুখ্যাত ড্রাগ লর্ড পাবলো এসকোবারের সাথে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর তুলনা)।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী যখন দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুগুলোতে হামলা জোরদার করছে, তখন নিজ দেশের নাগরিকদের এই বিক্ষোভ নেতানিয়াহু প্রশাসনের ওপর আন্তর্জাতিক চাপের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ চাপকেও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুদ্ধের ফলাফল যাই হোক না কেন, আসন্ন নির্বাচনে নেতানিয়াহুকে এই জনরোষের কঠিন জবাব দিতে হতে পারে।
এনএন/ ১০ মে ২০২৬









