ইউরোপ

মস্কোর রেড স্কোয়ারে সাদামাটা বিজয় দিবস: জয়ের দৃঢ় প্রত্যয় পুতিনের

মস্কো, ৯ মে – রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর রেড স্কোয়ারে এবার অনেকটা সীমিত পরিসরে ও কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী বিজয় দিবস। ইউক্রেনীয় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কার কারণে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে ব্যাপক কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। এমন এক নিয়ন্ত্রিত পরিবেশেই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তার ভাষণে ইউক্রেন যুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয়ের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। পুতিন তার ভাষণে দাবি করেন যে, রাশিয়ার বিজয় নিশ্চিত এবং এটি সবসময়ই তাদের ছিল।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতি স্মরণ করে তিনি ইউক্রেনে যুদ্ধরত রুশ সেনাদের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান। তিনি অভিযোগ করেন যে, ন্যাটো সমর্থিত আগ্রাসী শক্তির বিরুদ্ধে রুশ বাহিনী লড়ছে এবং তারা সাহসিকতার সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে। তবে সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের আয়োজন রাশিয়ার শক্তির চেয়ে তাদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা উদ্বেগকেই বেশি ফুটিয়ে তুলেছে। এবারের কুচকাওয়াজে সামরিক শক্তির বড় কোনো প্রদর্শনী দেখা যায়নি। বিশেষ করে ২০১৭ সালের পর থেকে যে নিয়মিত ট্যাংক ও সাঁজোয়া যানের উপস্থিতি থাকত, তা এবার প্রায় অনুপস্থিত ছিল।

পরিবর্তে ভিডিওর মাধ্যমে ড্রোন ও পারমাণবিক সক্ষমতা প্রদর্শন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে বেলারুশ, কাজাখস্তান ও উজবেকিস্তানের নেতাদের পাশাপাশি উত্তর কোরিয়ার সেনাদের কুচকাওয়াজে অংশ নিতে দেখা যায়। প্রায় ৪৫ মিনিটের এই আয়োজনটি বিগত বছরগুলোর তুলনায় অনেকটা সংক্ষিপ্ত ছিল। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মস্কোর বিভিন্ন এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছিল। ক্রেমলিন থেকে জানানো হয়েছে যে, প্রেসিডেন্ট পুতিনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই কঠোর ব্যবস্থা।

উল্লেখ্য যে, কুচকাওয়াজ উপলক্ষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময়ের বিষয়ে সমঝোতা হয়েছিল। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি প্রাথমিকভাবে প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করলেও পরে ১১ মে পর্যন্ত রাশিয়াকে আক্রমণ না করার ঘোষণা দেন। রণক্ষেত্রে বর্তমানে রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষই প্রায় স্থবির অবস্থায় রয়েছে।

কোনো পক্ষই বড় কোনো সাফল্যের মুখ দেখছে না এবং উভয় বাহিনীই ব্যাপক হতাহতের শিকার হচ্ছে। রাশিয়ার অভ্যন্তরেও যুদ্ধের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি ও বাজেট ঘাটতি দেশটির অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করছে। তবে পুতিন এখনো আলোচনার ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, কিয়েভকে অবশ্যই দোনেৎস্ক অঞ্চল থেকে তাদের বাহিনী সরিয়ে নিতে হবে, যা ইউক্রেন ইতোমধ্যে প্রত্যাখ্যান করেছে।

এস এম/ ৯ মে ২০২৬


Back to top button