ত্রিমুখী চাপে জামায়াতে ইসলামী: ভিডিওকাণ্ড ও জোটের ভাঙনে বাড়ছে সংকট

ঢাকা, ২৮ জুলাই – ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য আসন পেয়ে প্রথমবারের মতো সংসদে প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে জামায়াতে ইসলামী। তবে বিরোধী দলের আসনে বসার মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানেই দলটি একের পর এক বিতর্কের মুখে পড়েছে।
বিশেষ করে দলীয় সংসদ সদস্যের ভিডিওকাণ্ড, সরকারি বরাদ্দে স্বজনপ্রীতি এবং জোট রাজনীতিতে ফাটল এই তিন ইস্যুর ত্রিমুখী চাপে এখন অনেকটাই বেকায়দায় রয়েছে দলটি। সাম্প্রতিক সময়ে দলটিতে সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসে সাতক্ষীরা ৪ আসনের জামায়াতদলীয় এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক তরুণীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে দলটি। বিষয়টিকে আদর্শিক ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী উল্লেখ করে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। জামায়াতের রাজনীতিতে এটিই কোনো নেতার বড় ধরনের নারী কেলেঙ্কারির ঘটনা প্রকাশ্যে আসার প্রথম ঘটনা, যা নিয়ে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
এর আগে সরকারি অনুদান ও ত্রাণ বিতরণে কয়েকজন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠলে দলটিকে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হয়। এর পরপরই দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের স্বাক্ষরে সব এমপির কাছে কড়া লিখিত নির্দেশনা পাঠানো হয়।
সেখানে সরকারি সহায়তা বা আর্থিক বরাদ্দের ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন কিংবা ব্যক্তিগত সহকারীদের জন্য কোনো ধরনের সুপারিশ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে জোট রাজনীতিতেও নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।
হেফাজতে ইসলামের উদ্যোগে নতুন কওমিভিত্তিক রাজনৈতিক জোট গঠনের আলোচনার মধ্যে ১১ দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে গেছে খেলাফত মজলিস। এতে সংসদের বাইরে রাজনৈতিক সমীকরণেও নতুন চাপের মুখে পড়েছে জামায়াত। দলের একটি অংশ মনে করছে, উদ্দেশ্যমূলকভাবে তাদের নেতৃত্বাধীন জোট ভাঙার চেষ্টা চলছে।
জামায়াত নেতারা বলছেন, এখন তাদের সংসদ, জনপ্রতিনিধি, জোট ও জনআকাঙ্ক্ষা এই চারটি ক্ষেত্রই একসঙ্গে সামলাতে হচ্ছে। সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, ভবিষ্যতে যে কোনো বিতর্ক এড়াতে কেন্দ্রীয়ভাবে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এস এম/ ২৮ জুলাই ২০২৬









