উত্তর আমেরিকা

জেলেনস্কির প্রতি ইতিবাচক হচ্ছেন ট্রাম্প, পুতিনের ওপর থেকে সরছে সমর্থন

ওয়াশিংটন, ২৮ জুলাই – মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির প্রতি আগের তুলনায় অনেক বেশি ইতিবাচক মনোভাব দেখাচ্ছেন। একই সঙ্গে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গিতে কিছুটা পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গেছে।

ইউক্রেন ও রাশিয়ার চলমান যুদ্ধে কিয়েভের প্রতিরোধ করার সামর্থ্য নিয়েও ট্রাম্প নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী ট্রাম্প একসময় ধারণা করেছিলেন রাশিয়ার সামরিক বাহিনী ইউক্রেনকে পুরোপুরি পরাজিত করবে।

তবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়া এবং ইউক্রেনীয় বাহিনীর কঠোর প্রতিরোধ দেখে তার সেই ধারণা এখন পাল্টে গেছে। বর্তমানে তিনি পুতিনকে আগের তুলনায় কিছুটা বিরূপ দৃষ্টিতে দেখছেন। ট্রাম্প পুতিনকে জানিয়েছেন যে তিনি দ্রুত এই যুদ্ধের অবসান চান। এর কারণ হিসেবে তিনি উভয় পক্ষে বিপুল সংখ্যক মানুষের হতাহত হওয়ার বিষয়টি সামনে এনেছেন।

পাশাপাশি ইউক্রেনের সামরিক সক্ষমতা বিশেষ করে ড্রোন প্রযুক্তিতে দেশটির অভাবনীয় অগ্রগতি ট্রাম্পকে মুগ্ধ করেছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে ইরানের তৈরি ড্রোনের বিরুদ্ধে ইউক্রেনীয় বাহিনীর কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়টি ট্রাম্পের কাছে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

গত বছর ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টকে স্বৈরশাসক হিসেবে অভিহিত করলেও বর্তমানে তার অবস্থান নাটকীয়ভাবে পরিবর্তন হয়েছে। ট্রাম্পের দৃষ্টিতে জেলেনস্কি এখন একজন বিজয়ী যোদ্ধা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছেন। গত জুলাই মাসে ন্যাটো সম্মেলনের সাইডলাইনে জেলেনস্কির সাথে বৈঠকে ট্রাম্প তাদের মধ্যে একটি ভালো সম্পর্ক গড়ে ওঠার কথা জানান।

সম্প্রতি ওয়াশিংটনে তাদের সর্বশেষ বৈঠকের পর হোয়াইট হাউসে আবারও জেলেনস্কির সাথে বৈঠক করার কথা রয়েছে ট্রাম্পের। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বর্তমানে সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন।

ইউক্রেন বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ড্রোন উৎপাদনকারী দেশ এবং ২০২৬ সাল নাগাদ তাদের উৎপাদন সক্ষমতা কয়েক মিলিয়নে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই সক্ষমতা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য সম্ভাব্য ড্রোন হুমকি মোকাবিলায় সহায়ক হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

এস এম/ ২৮ জুলাই ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language