ইউরোপ

রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে প্রথম সড়ক সেতু: নেপথ্যে সামরিক কৌশলের আভাস

মস্কো, ২৮ জুলাই – রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সরাসরি সড়ক সংযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে তুমেন নদীর ওপর নির্মিত সেতুর কাজ প্রায় সমাপ্তির পথে। এই বিশেষ অবকাঠামোটি দুই দেশের বাণিজ্যিক ও পর্যটন বিকাশের প্রধান মাধ্যম হিসেবে প্রচার করা হলেও গবেষকরা একে ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখছেন।

তাদের আশঙ্কা সেতুটি মূলত ইউক্রেন যুদ্ধে সামরিক সহযোগিতা জোরদারের একটি শক্তিশালী কৌশলগত করিডোর হিসেবে ব্যবহৃত হবে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে। নতুন এই সড়ক সেতুটি রাশিয়ার দূরপ্রাচ্যের খাসান অঞ্চল এবং উত্তর কোরিয়ার তুমানগাংকে যুক্ত করবে।

সীমান্তের এই প্রত্যন্ত অঞ্চলে দীর্ঘকাল ধরে একমাত্র স্থল যোগাযোগ ছিল একটি রেলসেতু যা ফ্রেন্ডশিপ ব্রিজ নামে পরিচিত। উত্তর কোরিয়া তাদের অংশের প্রয়োজনীয় সব নির্মাণ কাজ এবং কাস্টমস অবকাঠামো সম্পন্ন করেছে। তবে রাশিয়ার দিকের কাজ বাকি থাকায় গত জুনে উদ্বোধনের পরিকল্পনা থাকলেও তা পিছিয়ে যায়।

ইউক্রেনের মানবাধিকার সংস্থা ট্রুথ হাউন্ডস পরিচালিত এক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে এই সেতুর প্রকৃত লক্ষ্য অর্থনৈতিক নয়। সড়কপথে ট্রাক চলাচল করলে পশ্চিমা গোয়েন্দা স্যাটেলাইটের নজরদারি এড়িয়ে যাওয়া অনেক সহজ। রেলপথে ওয়াগনের গঠন দেখে মালামাল সম্পর্কে ধারণা পাওয়া গেলেও সাধারণ ট্রাকের মাধ্যমে সামরিক সরঞ্জাম বহন করলে তা শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

এছাড়া দুই দেশের রেললাইনের প্রস্থ ভিন্ন হওয়ায় সীমান্তে ট্রেনের চাকা পরিবর্তনের সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়াটি সড়কপথে থাকবে না। সেতুটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার অথচ দুই দেশের বর্তমান বাণিজ্যের পরিমাণ এই খরচের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। ২০২৪ সালে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের অঙ্ক ছিল মাত্র ৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার।

এই অসামঞ্জস্যের কারণেই বিশ্লেষকরা মনে করছেন এটি মূলত সামরিক সম্পদ ও সেনা স্থানান্তরের লজিস্টিক হাব। স্যাটেলাইট চিত্রে রাশিয়ার অংশে হেলিকপ্টার অবতরণস্থল ও অতিরিক্ত স্থাপনা তৈরির প্রমাণ পাওয়া গেছে যা কেবল বেসামরিক কাজের জন্য ব্যবহৃত হওয়ার কথা নয়।

সাম্প্রতিক সময়ে উত্তর কোরিয়া রাশিয়াকে কয়েক হাজার কনটেইনার ভর্তি গোলাবারুদ এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে ইউক্রেনের কুরস্ক অঞ্চলে প্রায় ১৪ হাজার উত্তর কোরীয় সেনা মোতায়েন করা হয়েছে এবং এই সংখ্যা ৩০ হাজারে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কিম জং উন ইতিমধ্যেই যুদ্ধে নিহত সেনাদের পরিবারের জন্য বিশেষ আবাসন ব্যবস্থার উদ্বোধন করেছেন। নতুন এই সড়কপথ চালু হলে মস্কো ও পিয়ংইয়ংয়ের সামরিক জোট আরও শক্তিশালী হবে যা পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে।

এস এম/ ২৮ জুলাই ২০২৬


Back to top button