যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে ইরান, বাড়ছে সামরিক উত্তেজনা

তেহরান, ৯ মে – যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি ও শান্তি প্রস্তাব গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে ইরান। তবে কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যেই পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে উভয় পক্ষের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। ফলে দীর্ঘস্থায়ী শান্তির প্রচেষ্টার সমান্তরালে যুদ্ধ পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত হয়নি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের নেতৃত্বকে সতর্ক করে দ্রুত চুক্তিতে রাজি হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি হুশিয়ারি দিয়েছেন যে, তেহরান যদি সমঝোতায় না পৌঁছায় তবে তাদের আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপের মুখোমুখি হতে হবে। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে পাঠানো ১৪ দফার প্রস্তাবে ইরানকে ১২ বছরের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখা এবং বর্তমান মজুত ইউরেনিয়াম আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে হস্তান্তরের শর্ত দেওয়া হয়েছে।
বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র পর্যায়ক্রমে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং জব্দকৃত সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ইরানের পার্লামেন্ট ও রাজনৈতিক মহলে এই প্রস্তাব নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তেহরানের কর্মকর্তারা প্রস্তাবটিকে অবাস্তব বলে মন্তব্য করেছেন। দেশটির সংসদীয় কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওয়াশিংটনের এই প্রস্তাব কোনো বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা নয় বরং এটি তাদের নিজেদের ইচ্ছার একটি তালিকা মাত্র।
এদিকে হরমুজ প্রণালীতে উভয় বাহিনীর পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ইরান অভিযোগ করেছে তাদের তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে তারা ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকি মোকাবিলা করছে।
উত্তেজনা সত্ত্বেও পাকিস্তান ও আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনার পথ খোলা রাখা হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পারমাণবিক কর্মসূচি ও নিরাপত্তা গ্যারান্টি নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছানো বেশ জটিল হবে। দুই পক্ষই নিজ নিজ অবস্থানে অনড় থাকায় এই যুদ্ধবিরতি শেষ পর্যন্ত স্থায়ী রূপ পায় কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে গভীর অনিশ্চয়তা রয়েছে।
এস এম/ ৯ মে ২০২৬









