পশ্চিমবঙ্গ

নির্বাচনে হারলেও ইস্তফা দিতে নারাজ মমতা, কী বলছে ভারতের সংবিধান?

কলকাতা, ৬ মে – পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী সাফ জানিয়েছেন যে তিনি পদত্যাগ করবেন না। নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে তিনি দাবি করেন যে তারা হারেননি এবং পরাজয়ের প্রমাণ ছাড়া তিনি পদ ছাড়বেন না। তবে পরাজয়ের পরও কোনো মুখ্যমন্ত্রী পদত্যাগ না করলে সংবিধান অনুযায়ী কী ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব, তা নিয়ে আইনি মহলে বিস্তারিত আলোচনা শুরু হয়েছে।

ভারতের সংবিধানের ১৬৪ অনুচ্ছেদে রাজ্য মন্ত্রিসভা গঠন ও রাজ্যপালের ক্ষমতা সম্পর্কে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী ৬ মে বুধবার পশ্চিমবঙ্গের বিদায়ী মন্ত্রিসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে এবং এরপরে মমতা ব্যানার্জীর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বহাল থাকার আইনি ভিত্তি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। সাধারণত নির্বাচনের পর রাজ্যপাল সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানান।

আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী পদত্যাগ না করেন তবে রাজ্যপাল তার সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে মন্ত্রিসভাকে বরখাস্ত করতে পারেন। সংবিধানের ১৭২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো বিধানসভার মেয়াদ প্রথম অধিবেশন থেকে পাঁচ বছরের বেশি হতে পারে না এবং মেয়াদ শেষ হলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হয়ে যায়। দিল্লির সাংবিধানিক আইন বিশেষজ্ঞ স্বপ্নিল ত্রিপাঠি জানান, বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ করা একটি প্রতিষ্ঠিত প্রথা।

যদি কেউ এই প্রথা লঙ্ঘন করেন, তবে রাজ্যপাল সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাকে সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়ে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীকে অপসারণ করতে পারেন। মমতা ব্যানার্জী ভোট লুটের অভিযোগ তুলে আইনি ও রাজনৈতিক লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছেন। অন্যদিকে বিজেপি বিষয়টিকে হাস্যকর ও অসাংবিধানিক বলে মন্তব্য করেছে।

অতীতে জয়ললিতা বা লালু প্রসাদ ইয়াদবের মতো নেতারা বিভিন্ন কারণে পদত্যাগ নিয়ে অনড় থাকলেও আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের পদ ছাড়তে হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন রাজ্যপালের সিদ্ধান্তের ওপর অনেকাংশে নির্ভর করছে।

এস এম/ ৬ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language