উত্তর আমেরিকা

ইরানকে পৃথিবীর বুক থেকে নিশ্চিহ্ন করে দেব: ট্রাম্পের রণহুঙ্কার!

ওয়াশিংটন, ৫ মে – মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ-বাতাস এখন বারুদের গন্ধে ভারী। হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি এখন খাদের কিনারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক কড়া হুঁশিয়ারিতে জানিয়েছেন, ইরান যদি মার্কিন জাহাজে সামান্যতম আঘাত করার দুঃসাহস দেখায়, তবে দেশটিকে ‘পৃথিবীর বুক থেকে নিশ্চিহ্ন’ করে দেওয়া হবে।

স্নায়ুচাপের এই মুহূর্তে কৌশলগত এই নৌপথে ইরানের অবরোধ ভাঙতে এবং আটকা পড়া জাহাজগুলোকে নিরাপদে বের করে আনতে ট্রাম্পের নির্দেশে শুরু হয়েছে বিশেষ সামরিক অভিযান— ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’।

ফক্স নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়াশিংটনের অজেয় সামরিক শক্তির কথা মনে করিয়ে দেন। তিনি বলেন: “আমাদের কাছে আগের চেয়ে অনেক বেশি উন্নতমানের ও বিধ্বংসী অস্ত্র রয়েছে। বিশ্বজুড়ে আমাদের সামরিক ঘাঁটিগুলো আধুনিক সরঞ্জামে ঠাসা। আমরা যদি একবার সেগুলো ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিই, তবে ইরানের অস্তিত্ব বিপন্ন হবে।”

সোমবার থেকেই মার্কিন সামরিক বাহিনী হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের পথ সুগম করতে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করেছে। এই অভিযানের শুরুতে হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের সাতটি ছোট নৌযানকে মার্কিন বাহিনী গুলি করে ডুবিয়ে দিয়েছে বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার জানিয়েছেন, বর্তমানে হরমুজ প্রণালিতে প্রায় ৮৭টি দেশের জাহাজ আটকা পড়ে আছে। এই জাহাজগুলো এবং তাদের ক্রুরা মূলত এই সংঘাতের ‘নিরপরাধ দর্শক’। কুপার বলেন, গত ১২ ঘণ্টায় ডজনখানেক শিপিং কোম্পানির সঙ্গে তাঁরা যোগাযোগ করেছেন এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশ অনুযায়ী জাহাজগুলোকে নিরাপদে পার করে দেওয়ার কাজ চলছে।

এর আগে গত সোমবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা অয়েল ইন্ডাস্ট্রি জোনে ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালালে অঞ্চলের উত্তেজনা নতুন করে বৃদ্ধি পায়। মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, তারা ইতিমধ্যে দুটি মার্কিন বাণিজ্যিক জাহাজকে নিরাপদে প্রণালি পার হতে সহায়তা করেছে। তবে রিয়েল-টাইম শিপিং ট্র্যাকারগুলো দেখাচ্ছে যে, উত্তেজনার কারণে ওই জলপথে সাধারণ বাণিজ্যিক যাতায়াত এখনো অনেকাংশেই স্থবির হয়ে আছে।

এদিকে ইরানও পিছু হঠতে নারাজ। তেহরান থেকে জানানো হয়েছে, সমন্বয় ছাড়া কোনো জাহাজ হরমুজ অতিক্রম করার চেষ্টা করলে সেটিকে ‘শত্রু জাহাজ’ হিসেবে গণ্য করা হবে। এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়তে শুরু করেছে।

ট্রাম্পের এই আক্রমণাত্মক অবস্থান এবং ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ মূলত ইরানের অবরোধ ভাঙার একটি প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ। এই শক্তি প্রদর্শন যদি সরাসরি যুদ্ধে রূপ নেয়, তবে তা কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, পুরো বিশ্বের অর্থনীতিকে এক চরম সংকটে ফেলে দেবে।

এনএন/ ৫ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language