দক্ষিণ এশিয়া

গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গাসাগর আজ শুধুই পদ্ম: বাঙালির বেশে মোদীর বিজয় হুঙ্কার!

নয়াদিল্লি, ৪ মে – পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসকে ধরাশায়ী করে বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ের পর গেরুয়া আবিরে ছেয়ে গেছে রাজধানী দিল্লি। আজ বিজেপির সদর দপ্তরে এক অনন্য রূপে ধরা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সমালোচকদের ‘বহিরাগত’ তকমা ঝেড়ে ফেলে বাঙালির কৃষ্টি আর অস্মিতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি মঞ্চে উঠলেন খাঁটি বাঙালি পোশাকে— পরনে ঘিয়ে রঙের গরদের ধুতি, অফ-হোয়াইট তসরের পাঞ্জাবি আর গলায় চওড়া পাড়ের উত্তরীয়।

বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের প্রাথমিক বক্তব্যের পর প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণ শুরু করেন। তিনি বলেন, “গণতন্ত্র আমাদের শিরায় বয়ে চলা সংস্কার। আজ ভারতের সংবিধান জিতেছে।” বিহার জয়ের স্মৃতি রোমন্থন করে তিনি যোগ করেন, গঙ্গা বিহার থেকে বয়ে গিয়ে গঙ্গাসাগরে মেশে। আজ বাংলা জয়ের পরে গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গাসাগর—সব জায়গায় পদ্ম ফুটেছে।”

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বাংলার ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন। তিনি জানান আগামী ২৫ বৈশাখ (৯ মে) কবিগুরুর জন্মজয়ন্তীর পুণ্যলগ্নে বাংলার নতুন মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণ করবে।

মোদী বলেন, “আজ থেকে বাংলা ভয়মুক্ত হলো। হিংসা ও তোষণের রাজনীতিকে মানুষ মূল থেকে উপড়ে ফেলেছে। এই জয়ে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আত্মা শান্তি পেলো।” সরকার গঠনের পর প্রথম বৈঠকেই বাংলায় ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প চালু এবং অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।

বাংলায় রাজনৈতিক সহিংসতার ইতিহাসের অবসান ঘটিয়ে তিনি বলেন, “বদলা নয়, বদল চাই। কে কাকে ভোট দিয়েছে তার ঊর্ধ্বে উঠে এখন বাংলার সেবা করতে হবে।”

প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে কংগ্রেস, তৃণমূল এবং ডিএমকের জোটকে নারীশক্তির কাছে পরাজিত বলে উল্লেখ করেন। কমিউনিস্টদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আজ ভারতের কোথাও কমিউনিস্ট সরকার নেই। যখন দেশ কমিউনিজম থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, কংগ্রেস তখন আর্বান নকশালদের জায়গা করে দিচ্ছে।”

প্রাচীন ভারতের সমৃদ্ধির কথা মনে করিয়ে দিয়ে মোদী বলেন, একসময় ভারতের আর্থিক সমৃদ্ধির মূলে ছিল অঙ্গ (বিহার), বঙ্গ (বাংলা) ও কলিঙ্গ (ওড়িশা)। বিকশিত ভারত গড়ার লক্ষ্যে এই তিন স্তম্ভের উন্নয়ন অপরিহার্য।

প্রধানমন্ত্রীর আজকের এই ‘বাঙালি রূপ’ এবং আক্রমণাত্মক ভাষণ স্পষ্ট করে দিল যে, পশ্চিমবঙ্গ জয়কে বিজেপি তাদের জাতীয় রাজনীতির ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মাইলফলক হিসেবে দেখছে।

এনএন/ ৪ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language