দক্ষিণ এশিয়া

তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে থালাপতির দাপট: জয়ের পথে বিজয়ের টিভিকে

চেন্নাই, ৪ মে – তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের চিত্র ফুটে উঠছে। দীর্ঘ ৪৯ বছর পর দক্ষিণ ভারতের এই রাজ্যের শাসনভার গ্রহণ করতে যাচ্ছেন রুপালি পর্দার কোনো মহাতারকা। সর্বশেষ ১৯৭৭ সালে কিংবদন্তি অভিনেতা এম জি রামচন্দ্রন এই কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন। জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর, যিনি তাঁর অগণিত ভক্তের কাছে থালাপতি নামে পরিচিত, এখন সেই সাফল্যের একেবারে দ্বারপ্রান্তে অবস্থান করছেন।

তাঁর এই উত্থান কেবল রাজনৈতিক পালাবদল নয় বরং তামিল রাজনীতির প্রচলিত ধারাকে আমূল বদলে দেওয়ার একটি শক্তিশালী বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী বিজয়ের নবগঠিত দল তামিলগা ভেট্টি কাঝাগাম অভাবনীয় সাফল্যের পথে এগিয়ে চলেছে। রাজ্যের ২৩৪টি আসনের মধ্যে বিজয়ের দল ১০০ থেকে ১১৮টি আসনে জয় পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

মাত্র দুই বছর আগে রাজনৈতিক দল গঠন করে প্রথাগত বড় দলগুলোকে এভাবে টেক্কা দেওয়া তামিল রাজনীতির ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হচ্ছে যে তামিলনাড়ুর সাধারণ মানুষ এখন ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে দল দুটির বাইরে একটি শক্তিশালী বিকল্পকে বেছে নিতে প্রস্তুত। বিজয়ের এই রাজনৈতিক প্রস্তুতি ছিল দীর্ঘমেয়াদী এবং অত্যন্ত সুপরিকল্পিত।

পর্দার জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে হুট করে রাজনীতিতে না এসে তিনি ২০০৯ সাল থেকেই নিজের ফ্যান ক্লাবগুলোকে একটি সমাজসেবামূলক সংগঠনে রূপান্তর করেছিলেন। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সেই সংগঠনটি তৃণমূল পর্যায়ে শিক্ষা সহায়তা এবং স্থানীয় সমস্যার সমাধানে নিরলস কাজ করেছে। ২০২১ সালের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তাঁর সমর্থিত প্রার্থীদের জয় ছিল রাজনীতির মাঠে তাঁর প্রথম বড় পরীক্ষা।

এরপর ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে আনুষ্ঠানিকভাবে দল গঠনের পর তিনি অভিনয় ত্যাগের ঘোষণা দেন যা সাধারণ ভোটারদের মনে তাঁর প্রতি গভীর আস্থা তৈরি করে। নির্বাচনী প্রচারণায় বিজয় নিজেকে একজন ধৈর্যশীল শ্রোতা হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।

তিনি বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থান এবং শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। যদিও কারুরে একটি দলীয় কর্মসূচিতে পদদলিত হওয়ার ঘটনায় তাঁকে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল, তবে সেই সংকট তিনি অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে মোকাবিলা করেছেন। এম জি রামচন্দ্রন বা জয়ললিতার মতো জনমোহিনী প্রকল্পের বদলে বিজয় স্বচ্ছ শাসন এবং আধুনিক কর্মসংস্থানের ওপর জোর দিচ্ছেন। তাঁর এই ব্যতিক্রমী দর্শনই তাঁকে সাধারণ মানুষের কাছে এক বিশাল সামাজিক আন্দোলনের প্রতীকে পরিণত করেছে।

এস এম/ ৪ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language