হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে ইরানের নতুন প্রস্তাব

তেহরান, ১৬ এপ্রিল – আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ব্যাপারে নতুন একটি প্রস্তাব দিয়েছে ইরান।
ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে যে বাণিজ্যিক জাহাজগুলো যদি প্রণালীর ওমান অংশ দিয়ে চলাচল করে তবে ইরান হামলা চালাবে না। তবে এই প্রস্তাব বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একটি শর্তারোপ করা হয়েছে। ইরানি সূত্র মতে প্রস্তাবটি তখনই কার্যকর হবে যখন ওয়াশিংটন তেহরানের দাবিগুলো মেনে নিতে প্রস্তুত থাকবে।
১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ হরমুজ প্রণালী পারস্য উপসাগর ও আরব সাগরকে সংযুক্ত করেছে। এই প্রণালীর উত্তর উপকূলে ইরান এবং দক্ষিণ উপকূলে ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত অবস্থিত।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য এই পথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের মোট সরবরাহের প্রায় এক চতুর্থাংশ এই প্রণালীর মাধ্যমে পরিবহন করা হয়।
বাংলাদেশ ভারত ও পাকিস্তানের মতো দেশগুলোর জন্য এই প্রণালীর গুরুত্ব আরও বেশি কারণ এই তিন দেশের প্রয়োজনীয় জ্বালানি পণ্যের প্রায় ৮০ শতাংশ হরমুজ দিয়ে আসে। এছাড়া সার ও রাসায়নিক পণ্য পরিবহনের জন্যও এই পথটি প্রয়োজনীয়।
স্বাভাবিক সময়ে এই প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ১২০ থেকে ১৪০টি জাহাজ চলাচল করে। তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে অবরোধ জারি করে ইরান। এর ফলে জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক বাজারে সরাসরি প্রভাব পড়েছে এবং বিশ্বের অনেক দেশে তেলের দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে। এছাড়া অবরোধের পর থেকে কয়েকশ জাহাজ এবং দুই হাজারের বেশি ক্রু হরমুজে আটকা পড়ে আছেন বলে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ সংস্থা জানিয়েছে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করার পর পাকিস্তানের ইসলামাবাদে একটি দীর্ঘ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকেও হরমুজ প্রণালী স্বাভাবিক করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। তবে মাইন স্থাপনের কারণে বর্তমানে এই প্রণালী সম্পূর্ণ মুক্ত করা ইরানের জন্য বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে যে আইআরজিসি মাইন স্থাপনের সঠিক তথ্য নথিভুক্ত করেনি।
বর্তমানে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনী মাইন অপসারণে কাজ করছে। ইরানের পক্ষ থেকে এই নতুন প্রস্তাব হোয়াইট হাউসে পাঠানো হলেও মার্কিন কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এনএন/ ১৬ এপ্রিল ২০২৬









