ব্যবসা

নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি মূল্যে বিক্রি হচ্ছে এলপিজি সিলিন্ডার

ঢাকা, ৩ এপ্রিল – ভোক্তা পর্যায়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন। ১২ কেজি সিলিন্ডারের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে এক হাজার ৭২৮ টাকা। আগের মাসের এক হাজার ৩৪১ টাকা থেকে দাম বেড়েছে ৩৮৭ টাকা। তবে সরকারিভাবে এই মূল্য নির্ধারণ করা হলেও বাজারে এর কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। বরং নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি মূল্যে বিক্রি হচ্ছে এলপিজি সিলিন্ডার।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায় ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার দুই হাজার ১০০ থেকে দুই হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দোকানভেদে দামের কিছুটা তারতম্য থাকলেও কোথাও সরকার নির্ধারিত মূল্যে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না।

বিইআরসির ঘোষিত মূল্য অনুযায়ী এপ্রিল মাসে একজন ভোক্তার ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার কিনতে খরচ হওয়ার কথা এক হাজার ৭২৮ টাকা। কিন্তু বাস্তবে তাকে অতিরিক্ত ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বেশি গুনতে হচ্ছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের মাসিক গ্যাস খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু ১২ কেজি নয় অন্যান্য পরিমাপের সিলিন্ডার কিনতেও বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে ভোক্তাদের।

অতিরিক্ত দাম নেওয়ার বিষয়ে ভোক্তাদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা বলছেন এলপিজির দাম আগে থেকেই সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি ছিল। নতুন করে দাম বাড়ানোর ফলে বিক্রেতারা ইচ্ছামতো দাম হাঁকাচ্ছেন।

ধানমন্ডির বাসিন্দা নিহাল হোসেন জানান আগে তিনি ১৮০০ থেকে ১৯০০ টাকায় সিলিন্ডার কিনতেন যা এখন ২২০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। ফলে তার সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে। তিনি অভিযোগ করেন সরকারি দামে কোনো মাসেই এলপিজি পাওয়া যায় না। অন্যদিকে বিক্রেতারা জানান সরবরাহ সংকট পরিবহন খরচ বৃদ্ধি এবং ডিলার পর্যায়ে উচ্চমূল্যের কারণে তারা বেশি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

রাজধানীর হাতিরপুলের খুচরা ব্যবসায়ী রিপন হোসেন বলেন তারা ১২ কেজির সিলিন্ডার ২১০০ টাকায় বিক্রি করছেন কারণ তাদের নিজেদেরই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। টঙ্গী এলাকার মাদানী এন্টারপ্রাইজের ব্যবসায়ী আকরাম হোসেন মিঠুও একই কথা জানান। তিনি বলেন সরকার দাম বাড়িয়েছে তাই তারাও বেশি দামে কিনে বেশি দামে বিক্রি করছেন।

জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন এলপিজি বাজারে কার্যকর মনিটরিংয়ের চরম অভাব রয়েছে। সরকারি সংস্থাগুলোর নজরদারি দুর্বল হওয়ায় অসাধু ব্যবসায়ীরা ইচ্ছামতো দাম বাড়ানোর সুযোগ পাচ্ছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে দ্রুত বাজার নিয়ন্ত্রণ ও সরবরাহ নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন তারা।

এনএন/ ৩ এপ্রিল ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language