জ্বালানি সাশ্রয়ে নতুন সময়সূচি: অফিস ৯টা-৪টা, সন্ধ্যা ৬টায় বন্ধ হবে মার্কেট

ঢাকা, ৩ এপ্রিল – জ্বালানি সাশ্রয় এবং মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে উদ্ভূত বৈশ্বিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি ও বেসরকারি অফিসের সময়সূচি পরিবর্তন করেছে সরকার। একই সঙ্গে ব্যয় সংকোচনমূলক বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশের সব অফিস সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে এবং সন্ধ্যা ৬টার পর সব বিপণিবিতান ও মার্কেট বন্ধ রাখতে হবে। বৃহস্পতিবার রাতে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।
জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘ ১৮ ঘণ্টা কাজ করছেন। যাতায়াতের সময় বাঁচাতে এবং যানজট এড়াতে সংসদ ভবনেই এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়। আগামী কার্যদিবস থেকে সব সরকারি ও বেসরকারি অফিস সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে। ব্যাংকগুলো চলবে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত। আনুষঙ্গিক কাজ শেষ করার জন্য বিকেল ৪টায় ব্যাংক পুরোপুরি বন্ধ হবে। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সন্ধ্যা ৬টার পর দেশের সব মার্কেট, দোকানপাট ও শপিংমল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে কাঁচাবাজার, ওষুধের দোকান এবং খাবারের হোটেলের মতো জরুরি সেবাগুলো এই নির্দেশনার আওতামুক্ত থাকবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বিষয়টি কঠোরভাবে তদারকি করবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় পৃথক নির্দেশনা দেবে যা আগামী রবিবার থেকে কার্যকর হতে পারে। শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমাতে এবং যানজট নিরসনে শুল্কমুক্ত সুবিধায় ইলেকট্রিক বাস আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। যেসব স্কুল এই উদ্যোগে অংশ নেবে তারা বিশেষ সুবিধা পাবে। বাণিজ্যিক ক্ষেত্রেও নতুন ইলেকট্রিক বাস আমদানিতে শুল্ক কমিয়ে ২০ শতাংশ করা হয়েছে।
তবে কোনো পুরোনো বাস আনা যাবে না। সরকারের জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতের বাজেট থেকে ৩০ শতাংশ ব্যয় কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী তিন মাস সরকারি কোনো নতুন গাড়ি এবং কম্পিউটার সামগ্রী কেনা যাবে না। সরকারি কর্মকর্তাদের সব বিদেশ ভ্রমণ এবং অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণের ৫০ শতাংশ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি সভা ও সেমিনারের আপ্যায়ন খরচও ৫০ শতাংশ কমানো হয়েছে। জ্বালানি সংকটের এই সময়ে কোনো ধরনের বেসরকারি বিয়ে বা উৎসব অনুষ্ঠানে আলোকসজ্জা করা যাবে না বলেও স্পষ্ট জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
বৈঠকে পাবলিক এক্সামিনেশন অফেন্সেস অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট এর খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ১৯৮০ সালের এই আইনটি সংশোধন করে পাবলিক পরীক্ষায় অপরাধের বিচার আরও কঠোর করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে তেলের সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকায় সরকার বিকল্প উৎসের সন্ধান করছে। ইতোমধ্যে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও কাজাখস্তান থেকে তেল আমদানির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘবে সরকার জ্বালানি খাতে ভর্তুকি অব্যাহত রাখছে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
এস এম/ ৩ এপ্রিল ২০২৬









