আফ্রিকা

কঙ্গোয় ইবোলা পরিস্থিতির অবনতি: মৃত্যু ছাড়াল ২ হাজার ৩০০

কিনশাসা, ১৭ আগস্ট – গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোতে ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণ মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে। চলমান এই প্রাদুর্ভাবে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ২ হাজার ৩২৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের প্রাদুর্ভাবের রেকর্ড ভেঙে এটি দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ ইবোলা মহামারিতে পরিণত হলো।

ডিআর কঙ্গোর জাতীয় জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রবিবার পর্যন্ত দেশটিতে ইবোলায় আক্রান্তের সংখ্যা ৪ হাজার ৯৪৫ জনে পৌঁছেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে ১০১ জনের শরীরে। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক প্রধান টম ফ্লেচার এক বিবৃতিতে জানান, এটি এখন পর্যন্ত নথিভুক্ত সবচেয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ইবোলা প্রাদুর্ভাব।

কঙ্গোতে এটি ১৭তম ইবোলা সংক্রমণ। জুলাই মাসের শেষ দিকে এটি আক্রান্তের সংখ্যার দিক থেকে পূর্বের সকল রেকর্ড অতিক্রম করে। বর্তমান প্রাদুর্ভাবের গতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস।

তিনি সতর্ক করেছেন যে, সংক্রমণের হার না কমলে এটি ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের পশ্চিম আফ্রিকার মহামারির ভয়াবহতাকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। ওই সময়ে ইবোলায় আক্রান্ত হয়ে প্রায় ১১ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। এবারের সংক্রমণের জন্য দায়ী ইবোলা ভাইরাসের বান্দিবুগিও প্রজাতি।

এই প্রজাতির বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো অনুমোদিত টিকা বা সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা পদ্ধতি নেই। দুর্বল স্বাস্থ্য কাঠামো, দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় চলমান সংঘাত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমকে কঠিন করে তুলছে।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জুন মাসে মৃত্যুহার ২০ শতাংশ থাকলেও বর্তমানে তা বেড়ে ৪৬ শতাংশে পৌঁছেছে। ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্সের বিশেষজ্ঞ থমাস পারিশ জানান, অনেক ক্ষেত্রে আক্রান্তদের শনাক্ত করতে দেরি হচ্ছে, এমনকি মৃত্যুর পর অনেকের শরীরে ভাইরাসের অস্তিত্ব ধরা পড়ছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা সীমিত আকারে কিছু পরীক্ষামূলক টিকা ও চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে কাজ করছেন।

এস এম/ ১৭ আগস্ট ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language