জাতীয়

ত্রয়োদশ নির্বাচন পরবর্তী রাজনৈতিক সহিংসতা বৃদ্ধি, মার্চে নিহত ১৪

ঢাকা, ১ এপ্রিল – বেসরকারি সংস্থা মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের মাসিক প্রতিবেদনে দেশে রাজনৈতিক সহিংসতা বৃদ্ধির উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর রাজনৈতিক সহিংসতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত মার্চ মাসে ৫৬টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় ১৪ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ১০ জনই বিএনপির নেতাকর্মী।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ফেব্রুয়ারির তুলনায় মার্চ মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় হতাহতের সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়েছে।

গণমাধ্যম ও নিজস্ব অনুসন্ধানের তথ্যের ভিত্তিতে এমএসএফ জানায়, মার্চ মাসে সহিংসতার শিকার হয়েছেন ৪০৪ জন ব্যক্তি। এর মধ্যে ৩৯০ জন আহত এবং ১৪ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বিএনপির ১০ জন ছাড়াও জামায়াতের ২ জন, একজন নারী এবং রাজনৈতিক পরিচয় অজানা একজন রয়েছেন।

সহিংসতার কারণ বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, বিএনপির নিজেদের মধ্যকার অন্তর্দ্বন্দ্বে ৩১টি ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে ৯টি, বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে ৮টি, বিএনপি ও জাতীয় নাগরিক পার্টির মধ্যে ২টি এবং জামায়াতের নিজেদের মধ্যে একটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এমএসএফ উল্লেখ করেছে, সহিংসতার বেশিরভাগ ঘটনায় ক্ষমতাসীন দল বিএনপির অন্তর্দ্বন্দ্ব এবং আধিপত্য বিস্তারের প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে, যা জনমনে আতঙ্ক তৈরি করছে।

রাজনৈতিক সহিংসতা ছাড়াও মার্চ মাসে দুর্বৃত্তদের হামলায় রাজনৈতিক দলের আরও তিন কর্মী নিহত হয়েছেন।

নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার জের ধরে ২৪ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে আরও দুজনের মৃত্যুর তথ্য প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে দুজনের এবং কারা হেফাজতে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। নির্বাচিত সরকার গঠিত হওয়ার পরও দেশে গণপিটুনির মতো ঘটনা থামেনি বলে জানিয়েছে এমএসএফ।

মার্চ মাসে অন্তত ৩৬টি গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে। চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, জমি নিয়ে বিরোধ এবং তুচ্ছ কথা কাটাকাটির জেরে এসব ঘটনায় ১৯ জন নিহত ও ৩১ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। এছাড়া সালিশে মারধরের শিকার হয়ে পিরোজপুর ও জামালপুরে দুজনের আত্মহত্যার খবরও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এনএন/ ১ এপ্রিল ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language