লঘুচাপের প্রভাবে ৩ বিভাগে ভারী বৃষ্টির শঙ্কা, ৪ জেলায় বইছে মৃদু তাপপ্রবাহ

ঢাকা, ১৯ মে – দেশের এক প্রান্তে যখন মৃদু হাওয়া আর গরমে মানুষ হাঁসফাঁস করছে, ঠিক অন্য প্রান্তে তখন ঝুম বৃষ্টি আর বজ্রপাতের পূর্বাভাস দিচ্ছে আবহাওয়া অফিস। একই সময়ে দেশের আবহাওয়ার এই দুই রূপ সত্যিই অবাক করার মতো।
মঙ্গলবার (১৯ মে) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এই অদ্ভুত তথ্য জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম। একদিকে যেমন চার জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে দেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের ৪টি জেলার ওপর দিয়ে বর্তমানে মৃদু তাপপ্রবাহ (Mild Heatwave) বয়ে যাচ্ছে এবং এটি আগামী কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে। এই জেলাগুলো হলো নোয়াখালী, খুলনা, বাগেরহাট ও যশোর।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রাও রেকর্ড করা হয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিমের জেলা যশোরে—৩৬.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই জেলাগুলোতে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে, যার ফলে গরম ও ভ্যাপসা অস্বস্তি বজায় থাকবে।
গরমের এই খবরের ঠিক উল্টো চিত্র দেশের বাকি অংশে। আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রবিদ্যুৎসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে।
সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর হলো, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। উল্লেখ্য, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে সিলেটে—২১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, এবং সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে পাহাড়বেষ্টিত রাঙামাটিতে—৮৬ মিলিমিটার।
আগামীকাল বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বৃষ্টির পরিধি আরও কিছুটা বাড়তে পারে।
বুধবার ময়মনসিংহ, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায়; রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
সেই সঙ্গে ময়মনসিংহ, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে বুধবার সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে, তবে রাতের তাপমাত্রা একই রকম থাকবে।
হঠাৎ করে দেশের এক প্রান্তে বৃষ্টি আর অন্য প্রান্তে তাপপ্রবাহের পেছনে কাজ করছে একটি বিশেষ আবহাওয়া পরিস্থিতি বা সিনপটিক অবস্থা। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, বর্তমানে একটি লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল হয়ে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।
এই লঘুচাপের কারণেই মূলত বঙ্গোপসাগর থেকে আসা জলীয় বাষ্প দেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টির মেঘ তৈরি করছে, আর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে শুষ্ক ও গরম বাতাস ধরে রাখছে। ফলে তৈরি হচ্ছে এই “এক দেশে দুই আবহাওয়া”র পরিস্থিতি। তাই ঘরের বাইরে বের হওয়ার আগে ছাতা সাথে রাখতে ভুলবেন না!
এনএন/ ১৯ মে ২০২৬









