২৪ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও মানবপাচার: অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ফের রিমান্ডে

ঢাকা, ২৯ মার্চ – সিন্ডিকেট গঠন করে ২৪ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং মানবপাচারের অভিযোগে পল্টন মডেল থানায় দায়ের করা মামলায় এক এগারোর আলোচিত সেনা কর্মকর্তা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর ফের ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। রবিবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম শুনানি শেষে এই আদেশ প্রদান করেন।
এদিন প্রথম দফার পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক মো. রায়হানুর রহমান জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুনরায় সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন এবং আসামিপক্ষের আইনজীবী তৌহিদুল ইসলাম সজীব রিমান্ড বাতিলের আবেদন জানান।
উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত ছয় দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন। এর আগে গত ২৩ মার্চ দিবাগত রাতে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকার নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরদিন আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন। জনশক্তি রপ্তানিতে সিন্ডিকেট করে অর্থ আত্মসাৎ ও মানবপাচারের অভিযোগে গত ৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর পল্টন থানায় আফিয়া ওভারসিজের স্বত্বাধিকারী আলতাব খান মামলাটি দায়ের করেন।
এই মামলায় সাবেক প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমেদ, সাবেক সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন, এম ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সাবেক সংসদ সদস্য অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, আহমেদ ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী ও সাবেক সংসদ সদস্য বেনজীর আহমেদ এবং ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী মো. রুহুল আমীন স্বপনসহ মোট ১০৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, জনশক্তি রপ্তানিকারক দুই হাজারের বেশি রিক্রুটিং এজেন্ট থাকা সত্ত্বেও আসামিরা একটি মাফিয়া চক্র গড়ে তুলে ব্যবসায়ীদের মধ্যে বৈষম্য তৈরি করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন সরকারি পদে থাকা অবস্থায় নিজ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ছেলেকে এই সিন্ডিকেটের সদস্য হিসেবে ব্যবহার করেছেন। এছাড়া সাবেক প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমেদ তার স্ত্রীর বড় ভাইয়ের ছেলেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে প্রবাসী নামক একটি অ্যাপ চালুর অনুমোদন দিয়ে এই চক্রকে সহায়তা করেছেন।
আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও বলপ্রয়োগ করে মানবপাচারের উদ্দেশ্যে বাদীর কাছ থেকে অতিরিক্ত চাঁদা হিসেবে প্রত্যেকের জন্য দেড় লাখ টাকা হারে ৮৪১ জনের বিপরীতে মোট ১২ কোটি ৫৬ লাখ এক হাজার টাকা আদায় করেছেন। পাশাপাশি তারা সংঘবদ্ধভাবে অন্যান্য ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা চাঁদা আদায় করে তা আত্মসাৎ করেছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এ এম/ ২৯ মার্চ ২০২৬









