জাতীয়

সংসদের প্রথম অধিবেশনেই তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ আইনে পরিণত হবে

ঢাকা, ২৮ মার্চ – নারী শিশু ও তরুণদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করা হবে। মহিলা ও শিশু এবং সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন এই কথা জানিয়েছেন। শুক্রবার বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে নারী মৈত্রী আয়োজিত ইয়ুথ কনফারেন্সে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনুমোদিত ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ সংশোধন অধ্যাদেশ ২০২৫ জনস্বাস্থ্য ও অর্থনীতি উভয় ক্ষেত্রেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

যেহেতু এই অধ্যাদেশের ব্যাপারে সবাই একমত হয়েছেন তাই সংসদের বাধ্যবাধকতা মেনে প্রথম অধিবেশনের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এটিকে আইনে পরিণত করা হবে। কনফারেন্সে জানানো হয়, টোব্যাকো এটলাস ২০২৫ অনুযায়ী বাংলাদেশে বছরে তামাকজনিত রোগে প্রায় দুই লাখ মানুষের মৃত্যু হয়, যা দৈনিক গড়ে প্রায় ৫৪৬ জন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের সাম্প্রতিক গবেষণালব্ধ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ থেকে ২০২৫ অর্থবছরে তামাক খাত থেকে রাজস্ব আয় হয়েছিল প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা। অন্যদিকে তামাকের ব্যবহারজনিত কারণে মৃত্যু, অন্যান্য স্বাস্থ্য ক্ষতি এবং পরিবেশের ক্ষতি বছরে প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা।

অর্থাৎ প্রাপ্ত রাজস্বের চেয়ে ক্ষতির পরিমাণ দ্বিগুণেরও বেশি। অকাল মৃত্যু রোধ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ সংশোধন অধ্যাদেশ ২০২৫ অনুমোদিত হয়। অনুমোদিত অধ্যাদেশে পাবলিক প্লেস এবং গণপরিবহণে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া বিক্রয়স্থলে তামাকজাত দ্রব্যের প্রদর্শন, প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ওটিটি ও ডিজিটাল মিডিয়াসহ যেকোনো মাধ্যমে তামাকজাত দ্রব্যের সব ধরনের বিজ্ঞাপন প্রচার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও খেলাধুলার স্থানের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি নিষিদ্ধ করা এবং তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেটের গায়ে বিদ্যমান ৫০ শতাংশের পরিবর্তে ৭৫ শতাংশ এলাকা জুড়ে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী মুদ্রণের বিধানও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত বাংলাদেশ ক্যানসার সোসাইটির সভাপতি ড. গোলাম মহিউদ্দিন ফারুক বলেন, রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব হলো জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষা দেওয়া। তামাক কোম্পানি যে পরিমাণ রাজস্ব দেয় তার চেয়ে বেশি টাকা সরকারকে তামাকজনিত রোগের চিকিৎসার জন্য ব্যয় করতে হয়।

তাই তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশকে দ্রুত আইনে রূপান্তর করতে হবে। নারী মৈত্রী তামাকবিরোধী ইয়ুথ ফোরামের সদস্য তাসফিয়া নওরিন তরুণ সমাজকে রক্ষা করার জন্য তামাক কোম্পানির অপতৎপরতা রুখে দেওয়ার আহ্বান জানান। নারী মৈত্রীর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আকতার ডলির সভাপতিত্বে সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. শাহ আলী আকবর আশরাফীসহ বিভিন্ন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

এস এম/ ২৮ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language