মধ্যপ্রাচ্য

সংঘাতের মধ্যেও তেল বিক্রি থেকে ইরানের দৈনিক আয় ১৩ কোটি ৯০ লাখ ডলার

তেহরান, ২৭ মার্চ – যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের সঙ্গে তীব্র সংঘাত চলা সত্ত্বেও ইরানের বৈদেশিক মুদ্রার উপার্জন অব্যাহত রয়েছে। চলমান এই যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই পশ্চিম এশিয়ার দেশটি প্রতিদিন গড়ে ১৩ কোটি ৯০ লাখ ডলার আয় করছে যার পুরোটাই আসছে জ্বালানি তেল থেকে।

বৃহস্পতিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ গোয়েন্দা তথ্য এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার পর্যবেক্ষক বিভিন্ন সংস্থার বরাতে এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ জারি করে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি। আরব সাগর এবং পারস্য উপসাগরকে যুক্ত করা হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রুট। প্রতিদিন বিশ্বে চলাচলকারী মোট তেল এবং তরল গ্যাসবাহী জাহাজের ২০ শতাংশ এই রুট ব্যবহার করে থাকে। হরমুজ প্রণালীকে জ্বালানির বৈশ্বিক দরজাও বলা হয়।

মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো এই পথ ব্যবহার করেই বিশ্বজুড়ে তেল রপ্তানি করে থাকে। অবরোধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলোকে পণ্য পাঠানোর বিকল্প পথ খুঁজতে হচ্ছে এবং অনেকেই তেলের দৈনিক উত্তোলন কমিয়ে দিয়েছে।

তবে এই সংকটের সুবিধা কাজে লাগাচ্ছে ইরান। হরমুজ প্রণালী দিয়ে ইরানের ফ্ল্যাগশিপ জ্বালানি তেল ইরানিয়ান লাইট অবাধে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ করছে।

সংস্থাগুলোর তথ্যমতে ইরান থেকে প্রতিদিন গড়ে ১০ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেল তেল বহির্বিশ্বে রপ্তানি হচ্ছে। প্রথমে এই তেল খার্গ দ্বীপের টার্মিনালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখান থেকে হরমুজ প্রণালী ও পারস্য উপসাগর হয়ে বিভিন্ন গন্তব্যে পৌঁছায়।

যুদ্ধের কারণে ইরানের তেল উত্তোলনে কোনো ব্যাঘাত ঘটেনি বরং আয় বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তেলের সরবরাহ অনিয়মিত হয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে সমপরিমাণ তেল বিক্রি করে দেশটির দৈনিক আয় ছিল ১১ কোটি ৫০ লাখ ডলার যা বর্তমানে বেড়ে ১৩ কোটি ৯০ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলো থেকে টোল আদায় করেও ইরান প্রতিদিন অতিরিক্ত ২০ লাখ ডলার উপার্জন করছে।

আন্তর্জাতিক থিঙ্কট্যাংক সংস্থা গ্লোবাল এনার্জি পলিসির জ্যেষ্ঠ গবেষক রিচার্ড নেফিউ রয়টার্সকে জানান মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের অন্যতম উদ্দেশ্য ইরানের তেল খাত দখল করা হলেও বর্তমানে এটি তাদের জন্য নতুন মুনাফার সুযোগ তৈরি করেছে।

এনএন/ ২৭ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language