খার্গ দ্বীপে মার্কিন হামলার আশঙ্কায় সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করছে ইরান

তেহরান, ২৬ মার্চ – যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় পারস্য উপসাগরে অবস্থিত নিজেদের কৌশলগত খার্গ দ্বীপে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করছে ইরান। একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, ওই দ্বীপে যেকোনো স্থল অভিযান বা আক্রমণ প্রতিহত করতে আগে থেকেই ফাঁদ পাতাসহ ব্যাপক সামরিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে। পারস্য উপসাগরে ইরানের মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে এই খার্গ দ্বীপ অবস্থিত। আয়তনে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানহাটনের প্রায় এক তৃতীয়াংশ। কঠোর সামরিক নিরাপত্তার কারণে দ্বীপটি ইরানিদের কাছে নিষিদ্ধ দ্বীপ হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছে।
ইরানের অর্থনীতিতে এই দ্বীপের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের অন্যতম প্রধান তেলক্ষেত্র আহভাজ, মারুন এবং গাচসারান থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল এই দ্বীপে নিয়ে আসা হয়। দ্বীপটির দীর্ঘ জেটিগুলো গভীর পানিতে অবস্থিত হওয়ায় বিশালাকৃতির তেলবাহী জাহাজগুলো সহজেই সেখানে ভিড়তে পারে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইরানের মোট তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই খার্গ দ্বীপের মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাত করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ তাদের এক পুরনো প্রতিবেদনে এই দ্বীপটিকে ইরানের তেল সরবরাহ ব্যবস্থার সবচেয়ে সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। সম্প্রতি এই দ্বীপটির ভূরাজনৈতিক গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে ইসরায়েলের বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ মন্তব্য করেন, খার্গ দ্বীপের তেল টার্মিনাল ধ্বংস করা সম্ভব হলে ইরানের অর্থনীতি বড় ধরনের ধাক্কা খাবে এবং এর ফলে দেশটির বর্তমান সরকারও উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়ে পড়বে।
এস এম/ ২৬ মার্চ ২০২৬









