পারমাণবিক অস্ত্র মজুত রাখতে ইরানের উদাহরণ টানলেন কিম জং উন

পিয়ং ইয়াং, ২৫ মার্চ – পারমাণবিক অস্ত্র মজুত রাখা কেন জরুরি তা বোঝাতে ইরানের চলমান পরিস্থিতির উদাহরণ টেনেছেন উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উন।
মঙ্গলবার উত্তর কোরিয়ার আইনসভা সুপ্রিম পিপলস অ্যাসেম্বলিতে দেওয়া এক ভাষণে তিনি বলেন ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বর্তমান সংঘাত প্রমাণ করে যে পিয়ংইয়ংয়ের পারমাণবিক অস্ত্র ধরে রাখার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ সঠিক।
যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট সন্ত্রাসবাদ ও আগ্রাসনের অভিযোগ তুলে কিম স্পষ্ট করেছেন যে তার দেশের পারমাণবিক অবস্থান আর পরিবর্তন হবে না। উত্তর কোরিয়ার নেতৃত্বের দীর্ঘদিনের ধারণা পারমাণবিক অস্ত্রবিহীন দেশগুলো মার্কিন সামরিক শক্তির সামনে অনেকটাই অরক্ষিত।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি কিমের সঙ্গে আলোচনার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে কিম জানিয়েছেন তিনি আলোচনায় বসতে রাজি থাকলেও উত্তর কোরিয়াকে একটি পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে মেনে নিতে হবে এবং তাদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বৈরী নীতি পরিহার করতে হবে।
এদিকে উত্তর কোরিয়া সম্প্রতি নতুন যুদ্ধজাহাজ থেকে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন রকেট উৎক্ষেপণের মহড়া চালিয়েছে। এসব সামরিক মহড়ায় কিম তার কিশোরী কন্যা কিম জু আয়েকেও প্রকাশ্যে আনছেন যার মাধ্যমে বিশ্বকে বার্তা দেওয়া হচ্ছে যে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলবে। পাশাপাশি রাশিয়ার সঙ্গেও সম্পর্ক জোরদার করছে পিয়ংইয়ং।
বিশ্লেষকদের মতে ইউক্রেন যুদ্ধে মস্কোকে অস্ত্র ও সেনা দিয়ে সহায়তা করার বিনিময়ে উত্তর কোরিয়া উন্নত সামরিক প্রযুক্তি জ্বালানি এবং খাদ্য সহায়তা পাচ্ছে। কিমের এই অনড় অবস্থান ওয়াশিংটনের জন্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে কারণ উত্তর কোরিয়া এখন আর বিশ্ব রাজনীতিতে একঘরে নয় বরং একটি শক্তিশালী জোটের অংশ।
এনএন/ ২৫ মার্চ ২০২৬









