রামিসা হত্যার ক্ষোভে ফুঁসছে মিরপুর, কালশীতে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ

ঢাকা, ২১ মে – রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে টুকরো টুকরো করার লোমহর্ষক ঘটনাটি এবার রাজপথে গণবিস্ফোরণে রূপ নিয়েছে। এই জঘন্যতম নৃশংসতার প্রতিবাদে এবং ঘাতক সোহেল রানার দ্রুত ফাঁসির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে মিরপুর। বৃহস্পতিবার (২১ মে) সন্ধ্যায় কালশী প্রধান সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন হাজারো এলাকাবাসী ও সাধারণ মানুষ।
সড়ক অবরোধের কারণে ওই এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করতে হয়েছে। কেবল মিরপুরই নয়, শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে ক্ষোভে ফুঁসছে পুরো দেশ।
বৃহস্পতিবারের দিনটি শুরু হয়েছিল শোক আর প্রতিবাদের মধ্য দিয়ে। সকালে পল্লবীতে রামিসার বাসার সামনে জড়ো হয় তার অবুঝ সহপাঠী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা। রামিসার ছবি হাতে সহপাঠীদের কান্না ও বিচার চাওয়ার দৃশ্য পুরো এলাকায় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি করে।
বেলা বাড়ার সাথে সাথে এই ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়ে রাজপথে। সন্ধ্যায় সর্বস্তরের মানুষ দলমত নির্বিশেষে কালশী রোড অবরোধ করেন। বিক্ষোভকারীদের স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে চারপাশ। তাদের একটাই দাবি—”অপরাধীর কোনো ক্ষমা নেই, দ্রুততম সময়ে ফাঁসি চাই।”
বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, “আজকে রামিসার সাথে যা হয়েছে, কাল আমাদের সন্তানদের সাথেও তা হতে পারে। এই নরপিশাচের বিচার সাধারণ আইনে বছরের পর বছর ঝুলিয়ে রাখা যাবে না। দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে এনে একে সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে হবে।”
রামিসা হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে তীব্র প্রতিবাদ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর উত্তরের মহিলা বিভাগ। সমাবেশ থেকে বক্তারা বলেন, সমাজে নারীদের নিরাপত্তা আজ চরম হুমকিতে। রামিসার মতো একটি নিষ্পাপ শিশুকে যারা এভাবে হত্যা করতে পারে, তাদের একমাত্র শাস্তি হওয়া উচিত ফাঁসি।
রাজধানীর গণ্ডি পেরিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা শহরেও আজ রামিসা হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশের সচেতন নাগরিক সমাজ এই ঘটনাকে ‘মানবতার ওপর চরম আঘাত’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
বাথরুমে মাথা, খাটের নিচে দেহ: গা শিউরে ওঠা সেই হত্যাকাণ্ড
গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে মিরপুরের পল্লবীর একটি ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার করা হয় শিশু রামিসার মস্তকবিহীন দেহ। পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে খাটের নিচ থেকে দেহ এবং পরে বাথরুমের ভেতর থেকে তার খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করে। এই নৃশংস ঘটনার পরপরই পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
পুলিশ ঘটনার তদন্তে নেমে প্রথমে মূল অভিযুক্ত সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটক করে। পরে মূল ঘাতক সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
আজ জানা গেছে, গ্রেপ্তারের পর পুলিশের ম্যারাথন জেরা এবং পরবর্তীতে আদালতে দাঁড়িয়ে নিজের সমস্ত অপরাধের কথা স্বীকার করেছে পিশাচ সোহেল রানা। সে নিজেই আদালতকে জানিয়েছে, শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে গলা কেটে হত্যা করেছে সে।
সোহেল রানা আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করেছে, ফলে এই মামলার আইনি জটিলতা অনেকটাই কমে গেছে। এখন দেশের সাধারণ মানুষের একটাই চাওয়া—আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রিতা এড়িয়ে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে এই নরপিশাচের ফাঁসি কার্যকর করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো ‘রামিসা’কে এভাবে অকালে প্রাণ হারাতে না হয়।
এনএন/ ২১ মে ২০২৬









