ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা নিয়ে ধোঁয়াশা, কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার

তেহরান, ২৫ মার্চ – ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান উত্তেজনার মাঝে আলোচনা ইস্যু ঘিরে নতুন ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফলপ্রসূ আলোচনার দাবি করলেও তেহরান তা সরাসরি অস্বীকার করেছে। ফলে প্রকৃত পরিস্থিতি নিয়ে নানা প্রশ্নের জন্ম হয়েছে। আল জাজিরার এক বিশ্লেষণে জানানো হয়েছে এই বিপরীতমুখী অবস্থান কেবল কূটনৈতিক বিভ্রান্তি নয় বরং চলমান সংঘাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশ। ইরানের সংসদীয় স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের কোনো আলোচনা হয়নি। তার মতে তেলের বাজার প্রভাবিত করতে এবং সামরিক চাপ থেকে বের হওয়ার কৌশল হিসেবে ভুয়া বার্তা ছড়ানো হচ্ছে।
অন্যদিকে ট্রাম্প এমন এক সময়ে আলোচনার দাবি তুলেছেন যখন মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম চরম ওঠানামা করছে। গত সপ্তাহে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম প্রায় ১২০ ডলারে পৌঁছায়। বিশ্লেষকদের ধারণা এই সময়ে আলোচনার বার্তা দেওয়া বাজারকে স্থিতিশীল রাখার একটি কৌশল হতে পারে। এর বিপরীতে ইরানের অস্বীকার বাজারে অনিশ্চয়তা ধরে রাখে যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করে। আলোচনা প্রসঙ্গটি ওয়াশিংটনের জন্য একটি বহুমাত্রিক কৌশল হিসেবেও দেখা হচ্ছে। সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের আগে সময় নেওয়া, মধ্যপ্রাচ্যে সেনা মোতায়েনের সুযোগ তৈরি এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাপ কমানোর বিষয়গুলো এর সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে। হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করছে।
একই সঙ্গে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের সামনে মূলত দুটি পথ খোলা রয়েছে। একদিকে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করা এবং অন্যদিকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজা। প্রথমটিতে সামরিক অবস্থান শক্তিশালী থাকলেও অর্থনৈতিক চাপ বাড়বে। অন্যদিকে দ্বিতীয়টিতে দেশীয় রাজনীতির মাঠে সমালোচনার ঝুঁকি রয়েছে। ইরানের দৃষ্টিকোণ থেকেও পরিস্থিতি বেশ জটিল। তারা মনে করছে এই সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে। একই সঙ্গে তাদের ভেতরে কট্টর ও মধ্যপন্থি এই দুই ধরনের অবস্থান সক্রিয় রয়েছে।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে যদি ইরান হরমুজ প্রণালীতে প্রভাব ধরে রাখা বা ভবিষ্যৎ হামলা ঠেকানোর নিশ্চয়তা পায় তবেই আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না আসলেই কোনো সরাসরি আলোচনা চলছে কিনা। বিশেষজ্ঞদের মতে এই ধরনের সংঘাতে প্রকাশ্য বক্তব্যের চেয়ে সামরিক তৎপরতা, অর্থনৈতিক সংকেত এবং কূটনৈতিক আচরণ অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সবশেষে বলা যায় আলোচনা এখন কেবল বাস্তবতা নয় বরং একটি কৌশলগত হাতিয়ার। উভয় পক্ষই নিজেদের স্বার্থ অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন বয়ান দিচ্ছে। ফলে কে সত্য বলছে তার চেয়ে কোন বয়ানের পেছনে কী উদ্দেশ্য রয়েছে সেটিই এখন মূল বিষয় হয়ে উঠেছে।
এস এম/ ২৫ মার্চ ২০২৬









