মধ্যপ্রাচ্য

”ইরানের ইউরেনিয়াম না সরানো পর্যন্ত থামবে না লড়াই”— হুঁশিয়ারি নেতানিয়াহুর

তেল আবিব, ১১ মে – বিশ্বজুড়ে এখন একটাই প্রশ্ন—কবে শেষ হবে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ? কিন্তু ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক বক্তব্যে শান্তির আশা যেন আরও ফিকে হয়ে গেল। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে (CBS News) দেওয়া এক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত ইরানের পরমাণু বোমা তৈরির প্রধান উপাদান ‘ইউরেনিয়াম’ পুরোপুরি অপসারণ না করা হচ্ছে, ততক্ষণ এই যুদ্ধ শেষ হবে না।

বর্তমানে সাময়িক ‘যুদ্ধবিরতি’ চললেও যেকোনো মুহূর্তে ফের রণক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে মধ্যপ্রাচ্য। কিন্তু কেন এই ইউরেনিয়াম নিয়ে এতোটা মরিয়া ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র? চলুন জেনে নিই ভেতরের খবর।

জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থা (IAEA)-এর তথ্য অনুযায়ী, ইরানের কাছে বর্তমানে প্রায় ৪০০ কেজি ইউরেনিয়াম মজুত রয়েছে, যা ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধ। ভয়ের কারণ হলো, এই বিশুদ্ধতাকে ৯০ শতাংশে নিয়ে যেতে পারলেই ইরান একের পর এক পরমাণু বোমা বানাতে সক্ষম হবে। নেতানিয়াহুর দাবি, ইরান তাদের গোপন স্থাপনাগুলোতে এখনও এই বিশুদ্ধকরণ প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে।

গেল বছর জুন মাসে ১২ দিনের এক বিশাল সামরিক অভিযান চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও আসল লক্ষ্য পূরণ হয়নি—সেই ইউরেনিয়ামের কোনো হদিস মেলেনি। এরপর চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় দফায় ৪০ দিনের যুদ্ধ শেষে ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়। কিন্তু ১১ এপ্রিলের শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় পরিস্থিতি এখন ‘বারুদের স্তূপে’ দাঁড়িয়ে আছে।

সাক্ষাৎকারে যখন প্রশ্ন করা হয় যে ইউরেনিয়াম সরাতে বল প্রয়োগ বা সামরিক শক্তি ব্যবহার করা হবে কি না, তখন কৌশলী উত্তর দেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন: “আমি আমাদের সামরিক পরিকল্পনা বা সম্ভাব্যতা নিয়ে এখানে কোনো কথা বলব না। তবে এটুকু নিশ্চিত, এই যুদ্ধ বন্ধের জন্য ইউরেনিয়ামই সবচেয়ে বড় ইস্যু।”

নেতানিয়াহু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বক্তব্যের সূত্র ধরে বলেন, যদি ইরানের সাথে কোনো নতুন চুক্তি হয়, তবে সেখান থেকে ইউরেনিয়াম নিয়ে আসা সম্ভব। তবে কোনো ‘টাইম-টেবিল’ দিতে রাজি হননি তিনি। অর্থাৎ, ইরান যদি ইউরেনিয়াম হস্তান্তর না করে, তবে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের ছায়া আরও দীর্ঘ হবে।

নেতানিয়াহুর এই কঠোর অবস্থান মূলত জো বাইডেন বা পরবর্তী মার্কিন প্রশাসনের ওপর চাপ তৈরির কৌশল। একদিকে ইউক্রেন সংকট, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের পরমাণু ভীতি—সব মিলিয়ে বিশ্ব এখন তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় একের পর এক সংলাপ ব্যর্থ হওয়া ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, কূটনৈতিক সমাধান প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

এনএন/ ১১ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language