পশ্চিমবঙ্গে গ্যাস সংকটে বদলাচ্ছে খাদ্যাভ্যাস, বিপাকে সাধারণ মানুষ

কলকাতা, ২০ মার্চ – একদিকে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের তীব্র সংকট, অন্যদিকে প্রতি সিলিন্ডারে অন্তত ৬০ রুপি দাম বৃদ্ধি। এই দ্বিমুখী সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষ। রান্নার গ্যাসের অভাবে অনেকেই নিজেদের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস বদলাতে বাধ্য হচ্ছেন। বাসাবাড়ির পাশাপাশি হোটেল এবং রেস্তোরাঁগুলোতেও রান্নার পদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। কবে নাগাদ এই পরিস্থিতির উন্নতি হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
গ্যাসের ব্যবহার কমাতে অনেক পরিবার এখন রান্না কমিয়ে ফলমূল এবং বাজার থেকে কেনা প্রস্তুত করা খাবারের ওপর বেশি নির্ভর করছে।
কলকাতার একটি দৈনিক পত্রিকার প্রধান প্রতিবেদক আব্দুল ওদুদ জানান, বাড়িতে দুটি সিলিন্ডার থাকলেও পরিস্থিতি বিবেচনায় তারা রান্নার পদ কমিয়ে দিয়েছেন। আগে যেখানে তিন বা চারটি পদ রান্না হতো, সেখানে এখন মাত্র দুটি পদ তৈরি করা হচ্ছে। এমনকি গ্যাস সাশ্রয়ের জন্য চা পানের পরিমাণও কমানো হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
কলকাতার এক নারী উদ্যোক্তা বিলকিস পারভীন জানান, ইফতারের সময় তারা এখন মূলত ফলের ওপর নির্ভর করছেন। ভাজাপোড়া খাবারের পরিমাণ কমিয়ে রাতের খাবারকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা। রমজান মাসে মুসলিম পরিবারগুলোতে ভাজাপোড়া খাবারের ঐতিহ্য থাকলেও গ্যাস সংকটের কারণে অনেকেই এই ধরনের খাবার বাড়িতে তৈরি করা থেকে বিরত থাকছেন।
বেকবাগানের বাসিন্দা ইউসরা আহমেদ জানান, হালিম বা দইবড়ার মতো খাবারগুলো তারা এখন বাইরে থেকে কিনছেন। এর মূল উদ্দেশ্য হলো রাতের খাবার ও সেহরির জন্য গ্যাস বাঁচিয়ে রাখা।
সিআইটি রোডের বাসিন্দা সাবা খান জানান, গ্যাস বাঁচাতে তিনি এখন ইন্ডাকশন ওভেন এবং মাইক্রোওয়েভের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। এই সংকটের প্রভাব পড়েছে কলকাতার বিভিন্ন ফুড মার্কেট এবং ছোট খাবারের দোকানগুলোতেও।
জাকারিয়া স্ট্রিটের এক দোকান মালিক সামিউল্লাহ খান জানান, জ্বালানি সংকটের কারণে তারা উৎপাদন প্রায় ২০ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছেন। সব মিলিয়ে গ্যাস সংকট পশ্চিমবঙ্গের জনজীবনে এক বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
এনএন/ ২০ মার্চ ২০২৬









