উত্তর আমেরিকা

ইরানে মার্কিন অভিযানে অংশ নিতে ট্রাম্পের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করল ইউরোপীয় মিত্ররা

ওয়াশিংটন, ১৯ মার্চ – ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়ার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বান সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে জার্মানি ফ্রান্স ও স্পেনসহ যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলো। বুধবার জার্মানির পার্লামেন্ট বুন্ডেসটাগে দেওয়া এক ভাষণে চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎস স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন এই যুদ্ধ ইউরোপের নয়।

নিজেকে আটলান্টিকপন্থি হিসেবে পরিচয় দিলেও ওয়াশিংটন ও ইসরায়েলের এই যুদ্ধের যৌক্তিকতা নিয়ে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন এই অভিযানের কোনো সন্তোষজনক পরিকল্পনা নেই এবং ওয়াশিংটন ইউরোপের সঙ্গে কোনো পূর্ব আলোচনা ছাড়াই সাহায্য প্রত্যাশা করছে। এর ফলে যতদিন এই যুদ্ধ চলবে জার্মানি হরমুজ প্রণালীতে কোনো ধরনের সামরিক কার্যক্রমে অংশ নেবে না বলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন।

জার্মানির এই অবস্থানের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইম্যানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। ফরাসি প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট করে বলেছেন ফ্রান্স এই সংঘাতের কোনো পক্ষ নয় এবং তারা যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযানে যোগ দিচ্ছে না। অন্যদিকে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী সানচেজ ইরানের ওপর এই হামলাকে বেপরোয়া ও অবৈধ বলে অভিহিত করেছেন। এমনকি যুদ্ধের প্রয়োজনে স্পেনে অবস্থিত যৌথ সামরিক ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করতে না দিলে বাণিজ্য বন্ধ করে দেওয়ার যে হুমকি ট্রাম্প দিয়েছেন তাও স্পেন আমলে নিচ্ছে না। স্পেনের উপপ্রধানমন্ত্রী মারিয়া হোসে মন্তেরো জানিয়েছেন তারা কারও অনুচর হিসেবে কাজ করবেন না এবং কোনো হুমকিও সহ্য করবেন না।

ইউরোপীয় দেশগুলোর এই অনড় অবস্থানের পেছনে জনমতের একটি বড় ভূমিকা রয়েছে। বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে ব্রিটেনের ৪৯ শতাংশ জার্মানির ৫৮ শতাংশ এবং স্পেনের ৬৮ শতাংশ মানুষ ইরানের ওপর এই সামরিক হামলার বিরোধী। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে ট্রাম্প উইনস্টন চার্চিলের মতো নন বলে উপহাস করলেও স্টারমার তার দেশের জনগণের ইচ্ছাকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন।

কট্টর ডানপন্থি দল অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি থেকেও ট্রাম্পের সমালোচনা করে বলা হয়েছে ট্রাম্প একজন শান্তিকামী প্রেসিডেন্ট হিসেবে মেয়াদ শুরু করলেও এখন একজন যুদ্ধবাজ হিসেবে শেষ করতে যাচ্ছেন। ইউরোপীয় দেশগুলো মনে করছে এমন এক অনিশ্চিত যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার চেয়ে নিষ্ক্রিয় থাকাই বর্তমানে তাদের জন্য বেশি সুবিধাজনক। ইউরোপীয় নীতিনির্ধারকদের মতে আমেরিকার এই যুদ্ধের উদ্দেশ্য স্পষ্ট নয় এবং এটি সম্ভবত ইসরায়েলের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের লক্ষ্যের সঙ্গে যুক্ত।

সম্পর্কের এই টানাপোড়েনের মাঝে তেলের দাম কমাতে রাশিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার মার্কিন সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন ম্যার্ৎস। তবে হরমুজ প্রণালীতে তেল পরিবহন ও বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইউরোপীয় দেশগুলো নিজস্ব পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।

ম্যাক্রোঁ জানিয়েছেন ফ্রান্স যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়াই ইউরোপীয় এশীয় ও উপসাগরীয় দেশগুলোকে নিয়ে একটি স্বতন্ত্র জোট গঠনের চেষ্টা করছে যা ইরানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা প্রশমনে কাজ করবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কায়া কালাস জানিয়েছেন ট্রাম্পের এমন অপ্রত্যাশিত আচরণ সামলাতে ইউরোপ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি শান্ত ও সতর্ক।

এ এম/ ১৯ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language