ইরানের হামলার মুখে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করবে আমিরাত

তেহরান, ১৬ মার্চ – ইরানের সাম্প্রতিক ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর করার ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটির আন্তর্জাতিক সহযোগিতাবিষয়ক মন্ত্রী রিম আল-হাসিমি রবিবার জানিয়েছেন যে বর্তমান সংকটকাল আবুধাবির দীর্ঘমেয়াদি বন্ধুত্বে কোনো ফাটল ধরাতে পারবে না। বরং এই সম্পর্ক আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী ও সুদৃঢ় হবে। অস্ট্রেলিয়ার এবিসি টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করেন, ইরানের এই হামলার কারণে আমিরাত মার্কিন ঘাঁটি সরানোর বিষয়ে কোনোভাবেই পুনর্বিবেচনা করবে না। কয়েক দশকের পারস্পরিক আস্থা ও সম্মানের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা এই কৌশলগত অংশীদারত্ব কোনো ধরনের চাপের মুখে নতি স্বীকার করবে না বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপর ইরানের এ আক্রমণকে উন্মত্ততা হিসেবে অভিহিত করেছেন রিম আল-হাসিমি। তিনি বলেন, এই বৈরী আচরণ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে আবুধাবির চুক্তির ধরনে কোনো নেতিবাচক পরিবর্তন আনবে না। আমিরাত কোনো হুমকির কাছে মাথা নত করবে না এবং কঠিন সময়ে মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও নিবিড় করতে তারা বদ্ধপরিকর। উল্লেখ্য, ২০২০ সালে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের মাধ্যমে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে আমিরাত মধ্যপ্রাচ্যে এক নতুন ভূরাজনৈতিক মেরুকরণ তৈরি করে। এছাড়া আগামী এক দশকে যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে দেশটি।
গত দুই সপ্তাহে ইরান সংযুক্ত আরব আমিরাতকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ড্রোনসহ প্রায় দুই হাজার প্রজেক্টাইল নিক্ষেপ করেছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এসব হামলায় বেশ কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। আমিরাতের শক্তিশালী প্রতিরক্ষাব্যবস্থা অধিকাংশ হামলা প্রতিহত করতে সক্ষম হলেও এই অঞ্চলে ইসরায়েলের চেয়েও বেশি আক্রমণের শিকার হয়েছে তারা। বর্তমানে আবুধাবির আল ধাফরা বিমানঘাঁটিতে হাজার হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছেন। এই ঘাঁটিটি ইরানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। এত উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেও আমিরাত তার মিত্রদের পাশে অবিচল থাকার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা বজায় রাখার সিদ্ধান্তে অনড় অবস্থান প্রকাশ করেছে।
এস এম/ ১৬ মার্চ ২০২৬









