ইরানে হামলা চালিয়ে রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় ‘জুয়া’ খেললেন ট্রাম্প
ওয়াশিংটন, ৪ মার্চ – ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করার মধ্য দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রেসিডেন্সির সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অধ্যায়ে প্রবেশ করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে এই যুদ্ধ কেবল একটি সামরিক অভিযান নয় বরং এটি ট্রাম্পের রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় জুয়া। তেলের দাম বৃদ্ধি, মার্কিন সেনাদের প্রাণহানি এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধের বিস্তারের আশঙ্কায় তার রাজনৈতিক অবস্থান এখন নড়বড়ে। নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি যুদ্ধ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিলেও দায়িত্ব নেওয়ার এক বছরের মাথায় সাতটি দেশে সামরিক অভিযানের অনুমতি দিয়েছেন তিনি।
বর্তমান পরিস্থিতিকে ২০০৩ সালের ইরাক আগ্রাসনের পর সবচেয়ে বড় সামরিক সংঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর শঙ্কায় রয়েছে রিপাবলিকানরা। এর মধ্যেই শুরু হওয়া এই যুদ্ধ ট্রাম্পের জন্য অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।
ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায় মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত মার্কিন প্রেসিডেন্টদের জন্য বরাবরই নেতিবাচক ফল বয়ে এনেছে।
জর্জ ডব্লিউ বুশ বা জিমি কার্টারের উদাহরণ টেনে হোয়াইট হাউসের ভেতরেই ট্রাম্পের পরিণতি নিয়ে গুঞ্জন চলছে। তবে সব ঝুঁকি উপেক্ষা করে ট্রাম্প এই অভিযানকে অভূতপূর্ব সাফল্য হিসেবে দাবি করছেন।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যু এবং পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করাকে তিনি নিজের বড় অর্জন হিসেবে প্রচার করছেন।
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সতর্ক করেছেন যে মার্কিন বাহিনীর সবচেয়ে শক্তিশালী আঘাতগুলো আসা এখনো বাকি।
যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানও এক প্রতিবেদনে মন্তব্য করেছে যে ইরানে হামলা চালিয়ে ট্রাম্প তার শাসনামলের সবচেয়ে বড় ঝুঁকিটি নিলেন।
এনএন/ ৪ মার্চ ২০২৬









