রংপুরে চোর সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা উত্তরা থেকে মামলার অন্যতম আসামি গ্রেপ্তার

রংপুর, ১৬ ফেব্রুয়ারি – রংপুরের মিঠাপুকুরে চোর সন্দেহে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার অন্যতম পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বা র্যাব। সোমবার রাজধানীর উত্তরা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত মো. মোনারুল ইসলাম (৩০) ওই হত্যা মামলার ৩ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি। তাকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে র্যাব ১৩ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী জানান যে এ ধরনের সহিংস ও মর্মান্তিক ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে তারা বদ্ধপরিকর এবং পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায় নিহত মো. সোহেল রানা পেশায় একজন ট্রাক্টর ও ট্রলি চালক ছিলেন। প্রায় দেড় মাস আগে ১ নম্বর আসামি মো. হাফিজুর রহমানের বাড়ি থেকে একটি মোটরসাইকেল চুরি হলে সোহেল রানাকে সন্দেহ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে গত ২৭ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে আসামি মোনারুল ইসলাম কৌশলে সোহেল রানাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান এবং মোটরসাইকেল উদ্ধারের কথা বলে বিভিন্ন স্থানে ঘোরান।
পরবর্তীতে তাকে আটকে রেখে চুরির স্বীকারোক্তি আদায়ে নির্মম নির্যাতন ও ইলেকট্রিক শক দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। একপর্যায়ে সোহেলের বাবা মা খোঁজ নিতে গেলে মোনারুল ইসলাম তাদের কাছে ২০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন এবং স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় সোহেলকে পরিবারের জিম্মায় দেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৯ অক্টোবর রাতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন এবং পরদিন তার পিতা বাদী হয়ে মিঠাপুকুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় র্যাব গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে এবং অবশেষে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব ১৩ ও র্যাব ১ এর যৌথ অভিযানে ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সন্ধ্যায় ঢাকার উত্তরার ৮ নম্বর সেক্টর এলাকা থেকে মোনারুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। স্থানীয়রা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ এম/ ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬









