রংপুর

রংপুর চিড়িয়াখানায় হরিণের সংখ্যায় গড়মিল, ৩টি নিখোঁজ হওয়ার রহস্য

রংপুর, ৯ আগস্ট – রংপুর বিনোদন উদ্যান ও চিড়িয়াখানায় হরিণের সংখ্যায় অস্বাভাবিক গড়মিল দেখা দিয়েছে। নথিপত্র অনুযায়ী চিড়িয়াখানায় ৫৮টি হরিণ থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে দেখা মিলছে মাত্র ৫৫টির। এই তিনটি হরিণ নিখোঁজের পেছনে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি রয়েছে কি না তা নিয়ে স্থানীয় পশুপ্রেমীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

শুধু হরিণই নয়, এক বছরের ব্যবধানে এই চিড়িয়াখানা থেকে বিভিন্ন প্রজাতির আটটি পশুপাখি কমেছে বলেও জানা গেছে। বর্তমানে ৫৫টি হরিণকে দুটি পৃথক বেষ্টনীতে রাখা হয়েছে। ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি প্রাণী থাকায় হরিণগুলো গাদাগাদি করে থাকছে এবং বিচরণ করতে পারছে না।

সেই সঙ্গে হরিণগুলোর খাবারেরও তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চলতি অর্থবছরে সরকার নির্ধারিত ৫০ হাজার টাকা মূল্যে দুটি হরিণ বিক্রি করা হয়েছে এবং একটি হরিণ মারা গেছে। এর আগের বছর চিড়িয়াখানায় হরিণের সংখ্যা ছিল ৬২টি।

সে অনুযায়ী বর্তমানে হরিণ থাকার কথা ছিল ৫৯টি। তবে রেকর্ড অনুযায়ী হরিণ ছিল ৫৮টি, কিন্তু গণনায় পাওয়া যাচ্ছে ৫৫টি। এই নিখোঁজ তিনটি হরিণের রহস্য নিয়ে শুরু হয়েছে নানা গুঞ্জন। স্থানীয়দের অভিযোগ, হরিণগুলো হয়তো গোপনে জবাই করে বিক্রি করা হয়েছে অথবা নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি মূল্যে অন্যত্র সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

এমন অভিযোগও রয়েছে যে যাদের কাছে এসব হরিণ বিক্রি করা হয়েছে, তারা সেগুলো পালন না করে ভক্ষণ করেছেন। গত দশ বছরে রংপুর চিড়িয়াখানা থেকে প্রায় ৪০টি হরিণ বৈধভাবে বিক্রি হয়েছে। তবে এর বাইরে কতটি হরিণ অবৈধভাবে পাচার হয়েছে তার কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই কর্তৃপক্ষের কাছে।

নিয়ম অনুযায়ী মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় শুধু হরিণ ও ময়ূর বিক্রির অনুমোদন দেয়। এক্ষেত্রে বন্যপ্রাণী পালনের জন্য বন বিভাগের অনাপত্তিপত্র প্রয়োজন হয়। এছাড়া ক্রেতাকে অবশ্যই স্ত্রী ও পুরুষ জোড়া হিসেবে প্রাণী কিনতে হয় এবং কোনোভাবেই সেগুলো পাচার বা খাওয়া আইনত দণ্ডনীয়।

এক বছরের ব্যবধানে রংপুর চিড়িয়াখানায় উটপাখিসহ আটটি পশুপাখি কমেছে। বর্তমানে ২৯ প্রজাতির ২৫২টি পশুপাখি থাকলেও এর আগের বছর রংপুর চিড়িয়াখানায় ৩১ প্রজাতির ২৬০টি পশুপাখি ছিল। হরিণের সংখ্যার গড়মিল নিয়ে রংপুর চিড়িয়াখানার ভেটেরিনারি সার্জন ডা. এইচ এম শাহাদাত দাবি করেছেন যে খাঁচায় প্রদর্শনের প্রয়োজনে বেশি হরিণ থাকলেও এখানে কোনো অনিয়ম হওয়ার সুযোগ নেই।

এস এম/ ৯ আগস্ট ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language