চট্টগ্রাম বন্দরে শ্রমিক অসন্তোষ: ৪৮ ঘণ্টার জন্য কর্মবিরতি স্থগিত, রবিবার পর্যন্ত আল্টিমেটাম

চট্টগ্রাম, ৬ ফেব্রুয়ারি – চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়া এবং বন্দর চেয়ারম্যানের অপসারণের দাবিতে চলমান শ্রমিক অসন্তোষ সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে। নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর আন্দোলনকারীরা ৪৮ ঘণ্টার জন্য কর্মবিরতি স্থগিতের ঘোষণা দেন। তবে রোববারের মধ্যে দাবি আদায় না হলে ফের কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছে ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’।
এর আগে টানা ছয় দিনের কর্মবিরতিতে দেশের প্রধান এই সমুদ্রবন্দরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে চরম স্থবিরতা নেমে আসে। বৃহস্পতিবার সকালে নৌপরিবহন উপদেষ্টা চট্টগ্রাম বন্দর ভবনে পৌঁছালে তাকে নজিরবিহীন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। হাজারো বিক্ষুব্ধ শ্রমিক তার গাড়ি আটকে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দিতে থাকেন। প্রায় ১৫ মিনিট অবরুদ্ধ থাকার পর তিনি গাড়ি থেকে নেমে শ্রমিকদের শান্ত করেন এবং আলোচনায় বসেন।
বৈঠকে উপদেষ্টা আশ্বাস দেন যে জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে কোনো চুক্তি হবে না এবং শ্রমিকদের হয়রানি বন্ধ করা হবে। বন্দরের অচলাবস্থার কারণে গত ছয় দিনে প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বহির্নোঙরে আটকা পড়েছে অন্তত ১৪০টি জাহাজ, যার মধ্যে রমজানের ভোগ্যপণ্যবাহী জাহাজও রয়েছে। ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত পণ্য খালাস না হলে আসন্ন রমজানে বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এফবিসিসিআই, বিজিএমইএসহ ১০টি শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন যৌথ বিবৃতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে, বন্দরের এই অচলাবস্থা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে এবং বিদেশি ক্রেতাদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি করছে। বৈঠক শেষে উপদেষ্টা জানান, এনসিটি ইজারা প্রক্রিয়া নিয়ে গত ছয় মাস ধরে আলোচনা চলছে, এটি হুট করে নেওয়া সিদ্ধান্ত নয়। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, বন্দর অচল করে ১৮ কোটি মানুষকে জিম্মি করার এখতিয়ার কারো নেই। শুক্রবার থেকে কাজে বাধা দিলে সরকার কঠোর অবস্থানে যাবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
এসএএস/ ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬









