বাগেরহাটে স্ত্রী-সন্তান হারানো ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দামকে ৬ মাসের জামিন

ঢাকা, ২৬ জানুয়ারি – বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ সংগঠন) সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামকে হাইকোর্ট ৬ মাসের জামিন দিয়েছেন। সম্প্রতি স্ত্রী ও নয় মাস বয়সী সন্তান হারানো এই ছাত্রলীগ নেতার ক্ষেত্রে মানবিক বিবেচনায় এই জামিন দেওয়া হয়েছে।
সোমবার বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঞার হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালতে সাদ্দামের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা।
তিনি জানান, বাগেরহাটের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় সাদ্দাম জামিন পেয়েছেন। মানবিক কারণে তাকে জামিন দেওয়া হয়েছে। সাদ্দাম অন্যান্য মামলায় আগে থেকেই জামিনে ছিলেন, তাই তার মুক্তিতে আর কোনো বাধা নেই।
সাদ্দাম বর্তমানে একাধিক মামলায় কারাগারে বন্দি আছেন। গত ২৪ জানুয়ারি সন্ধ্যায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের গেটে তাকে মাত্র পাঁচ মিনিটের জন্য মৃত স্ত্রী ও নয় মাস বয়সী শিশুপুত্রকে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ দেওয়া হয়। প্যারোল না পাওয়ায় মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে কারাগারের গেটে আনা হয়েছিল।
কারা কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, মরদেহ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স সন্ধ্যা ৭টার দিকে কারাগারের সামনে পৌঁছায়। এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সসহ পরিবারের ছয়জন নিকটাত্মীয়কে জেলগেটের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। সেখানে মাত্র পাঁচ মিনিট অবস্থানের পর তাদের বের করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুটি মাইক্রোবাসে করে ১২ থেকে ১৫ জন স্বজন কারাগারের সামনে এসেছিলেন। বাইরে অপেক্ষমাণ স্বজনদের কান্নায় হৃদয়বিদারক দৃশ্য সৃষ্টি হয়েছিল। অনেক সংবাদকর্মীও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার হন সাদ্দাম। এরপর থেকে তিনি যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি আছেন। এর আগে শুক্রবার বিকেলে বাগেরহাট সদর উপজেলার বেখেডাঙ্গা গ্রামে সাদ্দামের নিজ বাড়ি থেকে স্ত্রী কানিজ সুরভানা স্বর্ণালীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পাশেই পাওয়া যায় তাদের ৯ মাস বয়সী শিশুপুত্র নাজিমের মরদেহ।
পুলিশ ও পরিবারের ধারণা, স্বর্ণালী সন্তানকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেছেন। সাদ্দামকে প্যারোলে না দেওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
এনএন/ ২৬ জানুয়ারি ২০২৬









