আইন-আদালত

হাদি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় বাড়ল

ঢাকা, ২৫ জানুয়ারি – ইনকিলাব মঞ্চের শহীদ মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) আরও চার দিনের সময় পেয়েছে। রোববার (২৫ জানুয়ারি) নির্ধারিত দিন থাকা সত্ত্বেও তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম সময়সীমা ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছেন।

মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা ইতিমধ্যে তিন দফা পেছানো হয়েছে। আদালতের সর্বশেষ নির্দেশ অনুযায়ী, সিআইডি ২৯ জানুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করবে। শুরুতে মামলার তদন্তে ডিবি পুলিশ যুক্ত থাকলেও পরে দায়িত্ব সিআইডিকে দেওয়া হয়।

এর ধারাবাহিকতায় ৬ জানুয়ারি ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদ এবং তার সহযোগীরা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে পরিকল্পিতভাবে হাদিকে হত্যা করেছেন।

ডিবি পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ জানান, আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং হাদির বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্য বিশ্লেষণ করে হত্যার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়েছে। এছাড়া আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে এবং ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টিও হত্যার অন্যতম লক্ষ্য ছিল।

অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ফয়সাল করিম মাসুদসহ মোট ১৭ জন। এদের মধ্যে ফয়সাল করিমসহ পাঁচজন এখনও পলাতক। এছাড়া হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারসহ বিভিন্ন ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া কয়েকজন আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়েছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, ১২ ডিসেম্বর দুপুরে ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে দুর্বৃত্তরা শরিফ ওসমান হাদির মাথায় গুলি করে। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।

পরদিন ১৯ ডিসেম্বর হাদির মরদেহ দেশে আনা হয়। ২০ ডিসেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সংলগ্ন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিসৌধের পাশে তাকে দাফন করা হয়।

এই ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর রাতে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। পরে ওসমান হাদি মৃত্যুবরণ করলে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে পরিণত হয়।

এনএন/ ২৫ জানুয়ারি ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language