আইন-আদালত

হাদি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে সিআইডিকে আরও ৫ দিন সময় দিল আদালত

 

ঢাকা, ২০ জানুয়ারি – ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) আরও পাঁচ দিন সময় দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) নির্ধারিত দিনে সিআইডি প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম নতুন করে আগামী ২০ জানুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

হাদি হত্যা মামলায় গত ৬ জানুয়ারি ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দেয় ডিবি পুলিশ। তবে ওই অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়ে গত ১৫ জানুয়ারি মামলার বাদী ও ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের নারাজি দাখিল করেন। এরপর আদালত মামলাটির তদন্ত সিআইডিকে করার নির্দেশ দেয়।

জুলাই অভ্যুত্থান এবং আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনের মাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া হাদি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত ১২ ডিসেম্বর গণসংযোগের জন্য বিজয়নগর এলাকায় গেলে তিনি হামলার শিকার হন। চলন্ত একটি রিকশায় থাকা অবস্থায় চলন্ত মোটরসাইকেলের পেছনে বসে থাকা এক আততায়ী তাকে গুলি করেন।

গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হাদিকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে অস্ত্রোপচার করা হয় এবং পরে রাতেই তাকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুই দিন পর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর হাদির মৃত্যুর খবর আসে।

হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর গত ১৪ ডিসেম্বর আবদুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটিতে হত্যা সংক্রান্ত ৩০২ ধারা যুক্ত করা হয়। এরপর থানা পুলিশের হাত ঘুরে মামলার তদন্তভার ডিবি পুলিশের কাছে যায়।

তদন্ত শেষে গোয়েন্দা পুলিশ সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি ও সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ফয়সাল করিম মাসুদসহ মোট ১৭ জনকে আসামি করে গত ৬ জানুয়ারি অভিযোগপত্র দাখিল করে।

অভিযোগপত্রে যাদের আসামি করা হয়েছে তারা হলেন— প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদ (৩৭), তার বাবা মো. হুমায়ুন কবির (৭০), মা হাসি বেগম (৬০), স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া (২৪), শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ শিপু (২৭), বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা (২১), মো. কবির (৩৩), মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল (৩৪), ভারতে পালাতে সহায়তার অভিযোগে সিবিয়ন দিউ (৩২), সঞ্জয় চিসিম (২৩), মো. আমিনুল ইসলাম ওরফে রাজু (৩৭), হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার মো. ফয়সাল (২৫), মো. আলমগীর হোসেন ওরফে আলমগীর শেখ (২৬), সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী, ভারতে পালাতে সহায়তাকারী ফিলিপ স্নাল (৩২), মুক্তি মাহমুদ (৫১) ও জেসমিন আক্তার (৪২)।

এই আসামিদের মধ্যে ফয়সাল করিম মাসুদসহ শেষের পাঁচজন এখনো পলাতক রয়েছেন।

অভিযোগপত্রে তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ উল্লেখ করেন, আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং বিভিন্ন সময়ে হাদির দেওয়া রাজনৈতিক বক্তব্য বিশ্লেষণ করে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা গেছে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

এছাড়া অভিযোগপত্রে বলা হয়, আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করা এবং ভোটারদের মধ্যে ভয়ভীতি তৈরি করার উদ্দেশ্যে ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে হাদির নির্বাচনি প্রচারে ঢুকে এই হত্যাকাণ্ড ঘটান।

এনএন/ ২০ জানুয়ারি ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language