মধ্যপ্রাচ্য

গাজা যুদ্ধবিরতি নিয়ে ইসরায়েল ও হামাসের পরোক্ষ আলোচনা শুরু

কায়রো, ০৬ অক্টোবর – গাজা যুদ্ধ বন্ধে ও জিম্মিদের মুক্তির লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে মিশরের কায়রোতে।

সোমবার (৬ অক্টোবর) হামাসের একটি প্রতিনিধি দল সেখানে ইসরায়েলি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসে।

মিসরের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল ‘আল কাহেরা’র বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে, গাজা যুদ্ধের অবসান নিয়ে মিসরে পরোক্ষ আলোচনা শুরু হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হলেও, বিতর্কিত বিষয়গুলো, বিশেষ করে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ ইস্যু; সমাধানের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চলমান এই যুদ্ধ দুই বছরে পা রাখতেই এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গাজার ২২ লাখ বাসিন্দার বেশিরভাগই এখন গৃহহীন ও ক্ষুধার্ত, ধ্বংসস্তূপের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। গাজা স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ৬৭ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের ঘটনায় ইসরায়েলের বাসিন্দারা এখনও আতঙ্কে আছে। ঐ দিন হামাসের নেতৃত্বাধীন যোদ্ধারা সীমান্ত পেরিয়ে ইসরায়েলি বসতিতে হামলা চালায়। হামলায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত হন, যাদের বেশিরভাগই বেসামরিক। এছাড়া ২৭১ জনকে জিম্মি করে নিয়ে যায় হামাস। ইসরায়েলের হিসাবে, সেটিই ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইহুদিদের জন্য সবচেয়ে রক্তাক্ত দিন।

বৈঠকের সাথে সংশ্লিষ্ট একজন ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা জানান, পারস্পরিক অবিশ্বাসের কারণে বড় কোনো সাফল্যের সম্ভাবনা খুবই কম। হামাস ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী আশঙ্কা করছে, ইসরায়েল জিম্মিদের উদ্ধারের পর আলোচনার টেবিল ছেড়ে যেতে পারে।

ইসরায়েলি প্রতিনিধিদলে রয়েছেন গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ ও শিন বেতের কর্মকর্তারা, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ওফির ফাল্ক এবং জিম্মি বিষয়ক সমন্বয়ক গাল হির্শ। তবে ইসরায়েলের প্রধান আলোচক রন ডারমার আগামী সপ্তাহে আলোচনায় যোগ দেবেন বলে তিনজন ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানিয়েছেন। এ বিষয়ে ডারমার বা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর কোনো মন্তব্য করেনি।

হামাসের প্রতিনিধি দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন সংগঠনটির নির্বাসিত গাজার নেতা খালিল আল-হাইয়া। গত মাসে কাতারের রাজধানী দোহায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় প্রাণে বেঁচে যাওয়ার পর এটি তার প্রথম বিদেশ সফর।

রোববার রাতে হামাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আলোচনায় তারা জীবিত ও মৃত জিম্মিদের বিনিময়ে ইসরায়েলের হাতে আটক ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি, গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং যুদ্ধবিরতির স্পষ্ট রূপরেখা জানতে চাইবে।

তবে ট্রাম্পের পরিকল্পনার মতোই সবচেয়ে জটিল ইস্যু হচ্ছে ইসরায়েলের হামাসের নিরস্ত্রীকরণের দাবি।

হামাসের এক সূত্র রয়টার্সকে জানায়, ইসরায়েল দখলনীতি বন্ধ না করা পর্যন্ত এবং স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত নিরস্ত্রীকরণের কোনো প্রশ্নই আসে না।

সূত্র: বাংলাদেশ জার্নাল
এনএন/ ০৬ অক্টোবর ২০২৫


Back to top button
🌐 Read in Your Language