রাজশাহী

রাজশাহীতে মদপানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫

রাজশাহী, ৩ জানুয়ারি- রাজশাহীতে বিষাক্ত মদপানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে পাঁচজনে দাঁড়িয়েছে। শনিবার (২ জানুয়ারি) বিকেল ও রাতে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুই ব্যক্তির মৃত্যু হয়। এর আগে শনিবার ভোরে হাসপাতালের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে তিনজনের মৃত্যু হয়।

মৃত ব্যক্তিরা হলেন, রাজশাহী নগরীর হোসনীগঞ্জ এলাকার আইনুল ইসলামের ছেলে ফয়সাল (২৮), জেলার বাগমারা উপজেলার শান্তাপাড়া এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে সজল (২৫), নগরীর বাকির মোড় এলাকার উত্তমের ছেলে সাগর (২৫) ও হেঁতেমখা এলাকার লুৎফর রহমানের ছেলে তুহিন (২৬) ও নগরীর কাদিরগঞ্জ এলাকার সেলিম আহম্মেদের ছেলে মুন আহম্মেদ (২২)। এদের পর শনিবার বিকাল ৪টার দিকে তুহিন এবং মুন রাত ৮টার দিকে মারা যান।

আরও পড়ুন:  স্ত্রীকে হত্যার পর মানসিক হাসপাতালে ভর্তি স্বামী!

রামেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস জানান, মোট ৭ জন তথ্য গোপন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এরমধ্যে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, পোস্ট মর্টেম ছাড়া মৃত্যুর আসল কারণ বলা যাবে না। সম্ভবত থার্টি ফার্স্ট নাইট উপলক্ষে বা নতুন বছরের অনুষ্ঠানে তারা মদ খেয়েছিল। তবে তারা এটা গোপন রাখে। পেট ব্যথা ও অন্যান্য সমস্যার কথা বলে হাসপাতালে ভর্তি হয়। পরে মদ খাওয়ার কথা জানায়।

রামেক সূত্রে জানা গেছে, আরও কয়েকজন মদপান করে অসুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছে চলে গেছে।

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. মাহাবুবুর রহমান বাদশা জানান, বাংলা মদে বেশি মাত্রায় রেকটিফাইড স্পিরিট থাকায় তাদের মৃত্যু হতে পারে। এই মদগুলোতে সাধারণত কাঠের আসবাবপত্রে বার্নিশের কাজে লাগে এমন রেকটিফাইড ব্যবহার করা হয়। কিন্তু স্পিরিট শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। বেশি গ্রহণে মৃত্যু হতে পারে। বিষয়টি ফরেনসিক বিভাগের রিপোর্ট হলে আরও ভালোভাবে জানা যাবে।

রামেক হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. কফিল উদ্দিন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তারা অ্যালকোহল জাতীয় কিছু খেয়েছে। তাদের শরীর থেকে ভিসেরা সংগ্রহ করে কেমিক্যাল ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। ল্যাবের রিপোর্ট শেষে বলা যাবে তাদের মৃত্যুর কারণ।

তিনি আরও জানান, শনিবার চারটি মৃতদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। সব মরদেহের শরীরে বিষক্রিয়া পাওয়া গেছে।

রাজপাড়া থানার (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, শুক্রবার রাত ৯টা থেকে ১০টার সময় মহানগরীর হোসনীগঞ্জ এলাকায় তারা মদপান করেন। এদের মধ্যে কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুস জানান, শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকলে শুক্রবার রাতের বিভিন্ন সময়ে তারা একজন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়। এরপর বিভিন্ন সময়ে তাদের মৃত্যু হয়। প্রচণ্ড অ্যাসিডিটি ও বমি হওয়ার ফলে তারা হাসপাতালে ভর্তি হয়। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসক জানান, তারা মদ পানে মারা যান।

রাত ১০টার দিকে রাজশাহী মহানগরীর রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, এখন পর্যন্ত কেউ কোনও অভিযোগ দেয়নি। ভুক্তভোগী সবাই এই বিষয়টি গোপন করার চেষ্টা করছে। আমরা আমাদের পক্ষ থেকে আইনি ব্যবস্থায় তদন্ত করে দেখবো। তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

আর/০৮:১৪/৩ জানুয়ারি


Back to top button