
ঢাকা, ২৫ ডিসেম্বর- কোটি টাকা ব্যয়ে চালু হতে যাওয়া প্রতীক্ষিত ‘সাইকেল লেন’ শুরুতেই মুখ থুবড়ে পড়তে যাচ্ছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে এই সাইকেল লেন আগামী মার্চে পুরোদমে চালু হওয়ার কথা থাকলেও এর আগেই দখল আর গাড়ি পার্কিংয়ের কারণে ভেস্তে যেতে বসেছে। সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায় সাইকেল লেনের উপর বসেছে চটপটি, চা ও খাবারের দোকান। কোথাও আবার পার্কিং করে রাখা হয়েছে ব্যক্তিগত গাড়ি ও বাস। আবার লেনের উপরেই আগে থেকেই পাকা করে বানানো আছে পুলিশ বক্স।
এমন অবস্থায় সাইকেল আরোহীরা অভিযোগ করে বলেন, যে উদ্দেশ্যে এই লেন করা হলো তা পূর্ণতা পাওয়ার আগেই ছিন্নমূল ব্যবসায়ীদের দখলে চলে গেলো। তারা এও বলেন, পরিকল্পনা নেয়ার আগে, রাস্তায় বসা ব্যবসায়ী আর নির্দিষ্ট স্থানে পার্কিং এর ব্যবস্থা না করায় বেদখল হচ্ছে সাইকেল লেন। সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাবকেই দুষছেন আরোহীরা।
এছাড়াও ভিন্নমত ছিলো কিছু সাইক্লিস্টদের। তারা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে সরকার ও সিটি করপোরেশনকে ধন্যবাদ জানান। তারা বলেন, শুধু প্রকল্প বাস্তবায়ন নয়, জনমানুষের জন্য হাতে নেয়া এসব প্রকল্প টেকসই স্থায়ীত্বের জন্য কর্তৃপক্ষকে বাড়তি নজর দিতে হবে।
সাইকেল লেনে অবৈধ দখল আর সেই লেনে পুলিশ বক্স থাকার বিষেয় জানতে চাওয়া হয় ডিএমপির ট্রাফিক (পশ্চিম) বিভাগের উপ-কমিশনার সাহেদ আল মাসুদের কাছে। তিনি জানান, সাইকেল লেনের বিষয়ে তারা এখনো কোন সরকারি নির্দেশনা পাননি। তবুও জনস্বার্থে যেকোনো ভালো উদ্যোগে পুলিশ সাধারণ মানুষের পাশে থাকবে। একই সঙ্গে অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ারও আশ্বাস দেন সাহেদ আল মাসুদ। পুলিশ বক্স যদি লেনের ওপরে থাকে তবে তা সরিয়ে অন্যত্র স্থানান্তর করা হবে বলেও জানান পুলিশের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
এসব বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সাইকেল লেন করা হয়েছে গণমানুষের জন্য। এ লেন সেইসব মানুষের কাছে ফিরিয়ে দিতে বধ্য পরিকর সিটি করপোরেশন। প্রকল্পটি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সামাজিকভাবে সাধারণ মানুষের কাছে হস্তান্তর করার হবে বলেও জানান আতিকুল ইসলাম।
আরও পড়ুন : স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার মারধরের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বাবা-মা
অবৈধ দখলের বিষয়ে জানতে চাইলে সিটি মেয়র হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা ইট-বালু যেভাবে নিলামে উঠিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, ঠিক একইভাবে সাইকেল লেনে থাকা অবৈধ স্থাপনাসহ যাবতীয় জিনিসপত্র নিলামে দেয়া হবে। এ বিষয়ে কোন ছাড় দেয়া হবেনা। আগামী রোববার (২৭ ডিসেম্বর) থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনার কথাও বলেন আতিকুল ইসলাম।
পরে, রাস্তায় স্টাফ বাস রেখে লেন দখলের বিস্তারিত জেনে তাৎক্ষণিকভাবে একটি অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে ফোন দিয়ে রাস্তা থেকে গাড়ি সরানোর নির্দেশ দেন মেয়র আতিক। তাকে সাবধান করে দিয়ে বলেন, রাস্তায় কোন বাস পাওয়া গেলে তাও নিলাম করা হবে।
এখন পর্যন্ত ১১কিলোমিটার রাস্তায় সাইকেল লেন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিটি মেয়র আতিকুল ইসলাম।
সূত্রঃ সময় নিউজ
আডি/ ২৫ ডিসেম্বর









