অস্ট্রেলিয়া

চিরমুক্তি পেতে স্বেচ্ছামৃত্যু বেছে নিলেন তরুণী!

ক্যানবেরা, ২৬ জুন – গত কয়েক বছর ধরেই হাসপাতালে শয্যাশায়ী ছিলেন দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার ২৩ বছরের লিলি তাই। যাবতীয় যন্ত্রণা থেকে নিষ্কৃতি পেতে স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন করেন তিনি। অবশেষে বুধবার তার ইচ্ছা অনুযায়ী স্বেচ্ছামৃত্যুর দেওয়া হয়েছে লিলিকে। ১০ সেকেন্ডেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন তিনি।

লিলির শরীরে বেঁধেছিল রোগ। সেই রোগ তার যন্ত্রণার মাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছিল দিনে দিনে। বেঁচে ছিলেন তিনি, তবে সে বাঁচা অর্থহীন। হাঁটচলতে পারতেন না।

খেতে গেলেই অসুস্থ বোধ করতেন আর পুরো শরীরজুড়ে অসহ্য যন্ত্রণা। গত কয়েক বছর হাসপাতালের বিছানায় শয্যাশায়ী তিনি। বিছানাই তার পৃথিবী, এর বাইরে তিনি যেতে পারতেন না।
১৭ বছর বয়সে লিলির ‘ইলার্স ড্যানলোস সিনড্রোম (ইডিএস)’ উপসর্গ ধরা পড়েছিল।

গত কয়েক বছরে অটো-ইমিউন অটোনমিক গ্যাগ্লিয়োনোপ্যাথি (এএজি) -এর সমস্যায় ভুগছিলেন। ধীরে ধীরে রোগীর স্নায়ুতন্ত্র অকেজো করে দেয় এই ব্যাধি। আস্তে আস্তে বিকল হতে থাকে সমস্ত অঙ্গপ্রত্যঙ্গ।
এসব সমস্যা নিয়ে দক্ষিণ তিনি অ্যাডিলেডের ফ্লিন্ডার্স মেডিক্যাল সেন্টারে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ইডিএস ধরা পড়ার বছরখানেক পর লিলির শ্বাসযন্ত্রের একাংশে সংক্রমণ ধরা পড়েছিল।

এমনকী প্রাকৃতিক ভাবে মলত্যাগও করতে পারতেন না তিনি। শরীরে অসহ্য যন্ত্রণা তো রয়েছেই। খাবার খেলেই শুরু হত যন্ত্রণা। খাবার হজম করানোর জন্য লিলির মেরুদণ্ডের অস্ত্রোপচার করে একটি টিউব ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল। যাতে ওই টিউবের মাধ্যমে তার পাকস্থলীতে অ্যাসিড নিঃসরণ করানো যায়। এছাড়া মস্তিষ্কের বাম দিকেও সমস্যা দেখা দেয়। চিকিৎসকরা চেষ্টা করলেও শারীরিক অবস্থার বিন্দুমাত্র উন্নতি হচ্ছিল না লিলির। এরপরেই স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন করেন এবং গত সপ্তাহে হাসপাতাল থেকেই আইনি কাগজপত্রে স্বাক্ষর করেন।
অস্ট্রেলীয় সংবাদমাধ্যম ‘দি অ্যাডভারটাইজার’-এর কাছে লিলি বলেন, ‘এই যন্ত্রণা এতটাই অসহ্য যে, বেঁচে থাকার কোনো অর্থ নেই। তা ছাড়া, নিজের হাতেই নিজেকে শেষ করতে চেয়েছিলাম।’ অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় সময় গত বুধবার চিরবিদায় জানানো হয় লিলিকে। তরুণ বয়সে মৃত্যুকেই বেছে নিলেন তিনি।

দক্ষিণ অ্যাডিলেডের ফ্লিন্ডার্স মেডিক্যাল সেন্টারে চিকিৎসাধীন থাকা লিলি, নিজের শেষ ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন। সমুদ্র সৈকতে ঘুরতে যেতে চেয়েছিলেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সেই শখ পূরণও করে। লিলিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল সমুদ্রের ধারে। বিছানায় শুয়েই সমুদ্রের ঢেউয়ের দিকে তাকিয়ে খেয়েছেন ফ্রেঞ্চ ফ্রাই এবং কোমল পানীয়।

অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২৮ জন নাগরিককে স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমতি দিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার সরকার।

সূত্র: কালের কন্ঠ
আইএ/ ২৬ জুন ২০২৩


Back to top button
🌐 Read in Your Language