রাশিয়াই উড়িয়েছে খেরসনের বাঁধ

নিউইয়র্ক, ১৮ জুন – চলতি মাসে খেরসেনের ‘নোভা কাখোভকা‘ বাঁধ রাশিয়া গুড়িয়ে দিয়েছে বলে বলে বিস্ফোরক তথ্য সামনে এনেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। প্রকৌশলী ও বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞদের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যমটি শুক্রবার জানিয়েছে, তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেছে বাঁধের কংক্রিটের মাঝের একটি গিরিপথে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
কয়েকদিন ধরে মস্কো ও কিয়েভ পাল্টাপাল্টি অভিযোগের পর এমন তথ্য সামনে এনেছে সংবাদমাধ্যমটি। তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্স বিস্ফোরণের কারণ নিয়ে দুইপক্ষের দাবি নিরপেক্ষভাবে যাচাই করতে পারেনি।
নিউ ইয়র্ক টাইমস আরও জানিয়েছে, যে প্রমাণগুলো পাওয়া গেছে তাতে স্পষ্টভাবে বোঝায় যাচ্ছে বাঁধটি রুশ নিয়ন্ত্রণকারীদের বিস্ফোরকেই বিকল হয়ে যায়।
এদিকে ইউক্রেনের প্রসিকিউটরদের তদন্তে সহায়তাকারী আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের একটি দল অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের প্রাথমিক অনুসন্ধানে শুক্রবার জানা গেছে, খেরসনে রাশিয়ার বিস্ফোরক দ্রব্যের কারণেই ‘খুব সম্ভবত’ ধ্বংস হয়েছে এটি।
যদিও জলবিদ্যুৎ বাঁধে নাশকতার পেছনে কিয়েভকে অভিযুক্ত করেছে ক্রেমলিন। রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত পাল্টা আক্রমণের মনোযোগ সরিয়ে আনতেই এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে দাবি তাদের।
কিয়েভ বলছে, সোভিয়েত আমলে নির্মিত এই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বাঁধ বিপর্যয়ে ইউক্রেনের বিস্তৃর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে চরম ভোগান্তিতে হাজার হাজার মানুষ।
তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্স বিস্ফোরণের ঘটনায় রাশিয়া জড়িত রয়েছে কিনা নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনের সত্যতা যাচাই করতে পারেনি। ২০২২ সালে ইউক্রেনে সর্বাত্মক আক্রমণ শুরুর পর এটি মস্কোর দখলে চলে যায়।
এদিকে, বাঁধ ধসের ঘটনায় অন্তত ৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৩১ জন। বন্যায় প্লাবিত হওয়ায় চরম দুর্ভোগে হাজার হাজার বাসিন্দা।
ইউক্রেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শনিবার জানিয়েছে,বন্যা আক্রান্ত এলাকা থেকে এখন পর্যন্ত সাড়ে ৩ হাজার মানুষকে সড়িয়ে নেয়া হয়েছে। এতে ৪৭৪ শিশু রয়েছে। প্রবল ঢলে খেরসন এবং মাইকোলাইভে এক হাজার ৩০০ বাড়ি এখনও পানির নিচে। এদিন টেলিগ্রামে খেরসনের রুশ নিয়ন্ত্রিত গভর্নর আন্দ্রে আলেকসেনকো বলেছেন, মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
সূত্র: বাংলাদেশ জার্নাল
আইএ/ ১৮ জুন ২০২৩









