স্ত্রী আসমার পরিকল্পনাতেই ইমামের হাতে স্বামী খুন

ঢাকা, ২৬ মে – রাজধানীর দক্ষিণখানে আলোচিত আজহার হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী তার স্ত্রী আসমা আক্তার। আজহারকে সরিয়ে দেয়ার জন্য মসজিদের ইমামকে ভাড়াটে কাউকে দিয়ে হত্যা করার জন্য বলেন আসমা। কিন্তু মসজিদের ইমাম নিজেই হত্যা করেন।
বুধবার র্যাব সদরদপ্তরে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।
র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, দক্ষিণখানে মসজিদের সেপটিক ট্যাঙ্ক থেকে নিখোঁজ হওয়া যুবকের ছয় টুকরা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় হত্যাকাণ্ডে নিহত আজহারের স্ত্রী আসমা আক্তার জড়িত। মসজিদের ইমাম আব্দুর রহিমের সঙ্গে আসমার প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। ইমামের সঙ্গে আসমার পরকীয়ার সম্পর্কের জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।
খন্দকার আল মঈন বলেন, মাওলানা মো. আব্দুর রহমান সরদারবাড়ি জামে মসজিদে ৩৩ বছর ইমামতি করে আসছিলেন। নিহত আজহারের ছেলে আরিয়ান মসজিদটির মক্তবে পড়াশোনা করত। আজহারও তার কাছে কোরআন শিক্ষা গ্রহণ করত, তাদের মধ্যে পারিবারিক সম্পর্ক ছিল। সেই সুবাদে গত ৫-৬ মাস ধরে তাদের বাসায় আসা যাওয়া ছিল ইমামের। বাসায় আসা-যাওয়ার এক পর্যায়ে আজহারের স্ত্রী আসমার সঙ্গে মসজিদের ইমামের অবৈধ সম্পর্ক তৈরি হয়। অবৈধ সম্পর্ক বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে আসমা আক্তারই আজহারকে হত্যা করার পরিকল্পনা করে।
র্যারে এই কর্মকর্তা আরো জানায়, ১৯ মে মাওলানা আব্দুর রহমানের সঙ্গে আজহারের কথা কাটাকাটি হয়। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে আজহারের গলার ডানপাশে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন আব্দুর রহমান। হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ধামাচাপা দিতে মরদেহ টুকরো টুকরো করে মসজিদের সেপটিক ট্যাংকে লুকিয়ে রাখেন। এরপরও ইমাম আব্দুর রহমান মসজিদে নিজের রুমেই অবস্থান করে আসছিলেন।
এর আগে, এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সরদার বাড়ি জামে মসজিদের ইমাম আব্দুর রহমানকে আটক করে র্যাব-১।
প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার রাজধানীর দক্ষিণখানের সরদার বাড়ি জামে মসজিদ থেকে ভোর ৫টার দিকে সেপটিক ট্যাংকের ভেতর থেকে টুকরা লাশ উদ্ধার করা হয়।
সূত্র : বাংলাদেশ জার্নাল
এন এইচ, ২৬ মে









