মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাইয়ের চেতনা নিয়ে বিএনপি কোনো ব্যবসা করতে চায় না: ধর্মমন্ত্রী

ঢাকা,০২ নভেম্বর-বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কিংবা জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে কোনো ধরনের ব্যবসা করতে চায় না বলে মন্তব্য করেছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধকে পুঁজি করে ব্যবসা করেছে, এখন আরেকটি দল জুলাইয়ের চেতনাকে নিয়ে ব্যবসা করছে। আমরা কোনো চেতনা নিয়ে ব্যবসা করতে চাই না। বরং মুক্তিযোদ্ধা থেকে শুরু করে জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত সবার যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে চাই।
সোমবার দুপুরে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে নিজস্ব তহবিল থেকে মুক্তিযোদ্ধা ও অসচ্ছল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আর্থিক অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কায়কোবাদ বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, একজন দেশপ্রেমিকের সন্তান। তার জন্য আপনারা দোয়া করবেন। আমি ও আমার পরিবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। চিকিৎসার জন্য তিনি আমাকে অনেক দিন সময় দিয়েছেন। তিনি এমন একজন মানুষ, যিনি সবসময় বাংলাদেশের গরিব, অসহায় ও সাধারণ মানুষের কথা ভাবেন। তিনি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৮ ঘণ্টাই কাজ করেন। দেশের মানুষের কল্যাণে তার এই নিরলস প্রচেষ্টা সত্যিই প্রশংসনীয়।
প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে ধর্মমন্ত্রী বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ২০০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। এটি করেছেন জনগণের নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি কৃষি কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ অন্যান্য ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের সম্মানী, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও প্রবাসী কার্ডের মতো বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ নিয়েছেন। বিশেষ করে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক খাল খনন কর্মসূচি তিনি নতুন করে হাতে নিয়ে তা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছেন। পাশাপাশি প্রতিবন্ধীদের জন্য মাসে তিন হাজার টাকা ভাতার ব্যবস্থাও করেছেন। মাত্র আট মাসে তিনি এতগুলো উদ্যোগ বাস্তবায়নের কাজ করেছেন। দেশের মানুষের উচিত তার জন্য দোয়া করা।
অনুদান বিতরণের বিষয়ে কায়কোবাদ বলেন, আজ মুক্তিযোদ্ধা ভাইদের জন্য নিজের তহবিল থেকে পাঁচ লাখ টাকা এবং অসচ্ছল সনাতন ধর্মাবলম্বী হিন্দু ভাইদের জন্য আরও পাঁচ লাখ টাকা উপহার দিয়েছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এই অর্থ যথাযথভাবে উপকারভোগীদের মধ্যে বিতরণের ব্যবস্থা করবেন। আমি চাই, অসচ্ছল ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে সবাই যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী দাঁড়াক।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের প্রশংসা করে ধর্মমন্ত্রী বলেন, যারা বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সফল করতে আন্তরিকভাবে কাজ করেছেন, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে ২৫ কোটি চারা রোপণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেই উদ্যোগ বাস্তবায়নে আপনারা ভূমিকা রেখেছেন। এ কর্মসূচিতে যারা প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় হয়েছেন, তাদের উৎসাহ দিতে যথাক্রমে ১০ হাজার, সাত হাজার ও পাঁচ হাজার টাকা করে পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। ভালো কাজের স্বীকৃতি দিলে মানুষ আরও বেশি উৎসাহিত হয়। আপনাদের ভালোবাসা ও সহযোগিতার জন্য আমি কৃতজ্ঞ।
অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মুরাদনগর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাকিব হাসান, মুরাদনগর সার্কেল পুলিশ সুপার কামরুজ্জামান, মুরাদনগর থানার ওসি আনোয়ার হোসেন চৌধুরী, বাঙ্গরা থানার ওসি শফিউল আলম, মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মহিউদ্দিন অঞ্জন, সদস্য সচিব মোল্লা মজিবুল হক, যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভুইয়া, আব্দুল আজিজ মোল্লা, নজরুল ইসলাম, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সোহেল সামাদ, যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ফারক আহমেদ বাদশাহ, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক খাইরুল আহসান, সদস্য সচিব সুমন মাস্টারসহ উপজেলা বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
এস এম/ ০২ নভেম্বর ২০২৬







