জাতীয়

দুর্নীতির মামলায় ফের গ্রেফতার দেখানো হলো ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের এমডি দিলীপ আগরওয়ালাকে

ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের এমডি দিলীপ আগরওয়ালা

ঢাকা,০২ নভেম্বর-ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে আবারও দুর্নীতির মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবির এ আদেশ দেন বলে জানিয়েছেন দুদকের কৌঁসুলি দেলোয়ার জাহান রুমী।

গত ২৫ অক্টোবর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও দুদকের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য করেন। এদিন শুনানির সময় দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে আদালত তাকে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দিয়ে কারাগারে পাঠান।

গ্রেফতার দেখানোর আবেদনে বলা হয়, দিলীপ কুমার আগরওয়ালার বিরুদ্ধে অসাধু উপায়ে ১১২ কোটি ৪৭ লাখ ২৮ হাজার ৪০৭ টাকার সম্পদের মালিকানা অর্জন ও তা দখলে রাখার অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া তার ৩৪টি ব্যাংক হিসাবে মোট ৩৮৫ কোটি ৩২ লাখ ৬২ হাজার ১২৩ টাকা জমা এবং ৩৬৯ কোটি ৯৭ লাখ ৯৪ হাজার ১৪০ টাকা উত্তোলনসহ সব মিলিয়ে ৭৫৫ কোটি ৩০ লাখ ৫৬ হাজার ২৬৩ টাকার লেনদেনের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর, রূপান্তর ও হস্তান্তর করে ‘লেয়ারিং’ করেছেন বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রতীয়মান হওয়ায় দুদক মামলা দায়ের করে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানো প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

অবৈধ অর্থের উৎস আড়াল করতে একাধিক ধাপে লেনদেন করাকে ‘লেয়ারিং’ বা ‘অর্থের স্তরায়ণ’ বলা হয়। গত ১৯ অক্টোবর সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানী থেকে দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। পরদিন সোনা ও হীরা চোরাচালান এবং অর্থ পাচারের মামলায় তাকে এক দিনের রিমান্ডে পাঠান আদালত।

এরপর ২১ অক্টোবর আ. জব্বার হত্যাচেষ্টার মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে দুই দফায় ছয় দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ড শেষে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

সোনা ও হীরা চোরাচালান, প্রতারণা, জালিয়াতি এবং অর্থ পাচারের অভিযোগে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে গ্রেফতার করেছিল তৎকালীন র‌্যাব। ওই দিন মধ্যরাতে গুলশানে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের কার্যালয় ঘিরে অভিযান চালায় র‌্যাব।

পরে কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্যে ঢাকার বাড্ডায় হৃদয় আহমেদ নামে এক কিশোরকে হত্যার মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করে পুলিশ। বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার দেখানোর পাশাপাশি রিমান্ডেও নেওয়া হয় তাকে। এসব মামলায় নিম্ন ও উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর তিনি কারামুক্ত হন।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গা-১ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন দিলীপ আগরওয়ালা। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক উপকমিটির সদস্য।

এস এম/ ০২ নভেম্বর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language