ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী অংশে দুর্ঘটনার রেকর্ড: ১০ মাসে ঝরল ৬৯ প্রাণ

ফেনী, ২৬ অক্টোবর – ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী অংশে দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি। হাইওয়ে পুলিশের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ সালের প্রথম ১০ মাসে (জানুয়ারি–অক্টোবর) এই মহাসড়কে মোট ৮৭টি দুর্ঘটনায় ৬৯ জন নিহত এবং ৯৫ জন আহত হয়েছেন। সড়ক নিরাপত্তা জোরদারে কোটি টাকার আধুনিক সরঞ্জাম থাকলেও বাস্তবে তার কোনো সুফল পাচ্ছে না সাধারণ মানুষ।
দুই বছরের ব্যবধানে ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে মৃত্যু
হাইওয়ে পুলিশের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত তিন বছরের মধ্যে মহাসড়কের এই অংশে সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে:
- ২০২৪ (প্রথম ১০ মাস): ৪৬ জনের মৃত্যু, আহত ৪৩ জন।
- ২০২৫ (প্রথম ১০ মাস): ৬৬ জনের মৃত্যু, আহত ৫১ জন (মামলা ৪৮টি)।
- ২০২৬ (প্রথম ১০ মাস): ৬৯ জনের মৃত্যু, আহত ৯৫ জন (মামলা ৬২টি)।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ পর্যন্ত ৬২টি মামলা দায়ের করলেও এর বড় একটি অংশের আসামি থেকে যাচ্ছে অধরা।
অকার্যকর ডোপ টেস্ট ও স্পিড গান: ক্ষোভ স্বজনদের
দুর্ঘটনায় নিহতদের স্বজনদের অভিযোগ, হাইওয়ে পুলিশের কার্যকর নজরদারির অভাবেই চালকরা বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর সুযোগ পায়।
মহিপাল হাইওয়ে পুলিশের পরিদর্শক মো. নুরুল আফছার জানান, মহাসড়কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন (এআই) সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করার অজুহাতে বর্তমানে গতি মাপার স্পিড গান ব্যবহার করা হচ্ছে না এবং চালকদের মাদকাসক্তি পরীক্ষার ডোপ টেস্ট কার্যক্রমও পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। দুর্ঘটনার পরপরই চালক পালিয়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে ‘অজ্ঞাত’ আসামির নামে মামলা করতে হয় বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে, ফাজিলপুর হাইওয়ে পুলিশের ওসি মোহাম্মদ কবির হোসেন জানান, তাদের আওতাধীন এলাকায় ৩৬টি দুর্ঘটনায় ৩২ জনের প্রাণহানি ঘটেছে; দায়ের করা ২৪টি মামলার মধ্যে ইতোমধ্যে ১১টির অভিযোগপত্র (চার্জশিট) আদালতে দাখিল করা হয়েছে।
নিসচা, বিআরটিএ ও আদালতের বক্তব্য
নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) ফেনী জেলা কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান দারা বলেন— চালকদের দক্ষতার ঘাটতি, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, ওভারলোডিং এবং বেপরোয়া বাইক চালানোর কারণেই মূল দুর্ঘটনাগুলো ঘটছে। হাইওয়ে পুলিশ কঠোর নজরদারি বাড়ালে মৃত্যুর এই হার অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
বিআরটিএ ফেনী সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জি.) মো. আল ফয়সাল জানান, দুর্ঘটনা কমাতে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও চালকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া আইনি সহায়তার অংশ হিসেবে গত ১২ জুলাই সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২১ জনের পরিবারকে মোট ১ কোটি ৫ লাখ টাকা এবং আহত দুজন কে ৪ লাখ টাকার সরকারি ক্ষতিপূরণের চেক দেওয়া হয়েছে।
ফেনী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দীন খাঁন জানান, মামলা পরিচালনা ও বিচারে রাষ্ট্রপক্ষের সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মূল আসামির নাম-পরিচয় না থাকায় আইনি প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়।
এনএন/ ২৬ অক্টোবর ২০২৬







